করোনা-সংকটে থমকে গেছে ডিএসসিসির সব উন্নয়নকাজ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০২:০৮ এএম

করোনা-সংকটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সব উন্নয়নকাজ থমকে গেছে। বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় বন্ধ হয়ে গেছে ডিএসসিসির বেশিরভাগ ছোট-বড় প্রকল্পের কাজ। ওসমানী উদ্যানে গোস্বা নিবারণী পার্ক, চাঁনখারপুল মার্কেট নির্মাণকাজ, নতুন চার ইউনিয়নে রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মাণসহ প্রায় সব কাজই মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কাজ শেষ হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা। এ ছাড়া কাজের সময় বাড়ানো হলে ব্যয়ও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো। 

জানতে চাইলে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাবে এই মুহূর্তে আমাদের বড় বড় উন্নয়ন কাজ বন্ধ আছে। কাজ করার জন্য শ্রমিক যেমন নেই, তেমনি কাজের যেসব উপকরণ প্রয়োজন হয় তাও পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া যেহেতু কভিড-১৯ রোগটি ভাইরাসজনিত তাই এই মুহূর্তে কাজ চালিয়ে যাওয়া সঠিক হবে না।’ তিনি বলেন, ‘কাজ বন্ধ থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রকল্পের সময় বাড়বে। নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করা সম্ভব হবে না।’

ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্কের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত পার্ক উন্নয়নের অগ্রগতি মাত্র ১৮ শতাংশ। একই অবস্থা শহীদনগর মিনি স্টেডিয়াম নামের প্রকল্পটিরও। ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট শুরু হওয়া পার্কটির কাজ মাত্র ১০ শতাংশ শেষ হয়েছে। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পার্ক ও মালিটোলা পার্ক ৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ওসমানী উদ্যান বা গোস্বা নিবারণী পার্ক ৪৫ ভাগ, বকশীবাজার পার্ক ৪৫ ভাগ, বশির উদ্দিন পার্ক ৪০ ভাগ, হাজারীবাগ পার্ক ৪০ ভাগ, বাংলাদেশ মাঠ ৩০ ভাগ, সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ ২৫ ভাগ, পান্থকুঞ্জ পার্ক ১৫ ভাগ, আজিমপুর শিশুপার্ক ১০ ভাগ ও সামসাবাদ খেলার মাঠ মাত্র ২ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩০টি পার্ক ও খেলার মাঠের কাজ গড়ে ৬২ থেকে ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানা যায়। বাকি কাজ স্বাভাবিক অবস্থা থাকলে আগামী ৬ থেকে ৮ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও এখন অনেকটাই থেমে গেছে।

ডিএসসিসির প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ডিএসসিসির চানখাঁরপুল মার্কেটের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ২ বছর মেয়াদ দিয়ে তা শেষ করার কথা বলা হয়েছে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবরে। ১২ তলা ভিত্তির ওপর ৫ তলা ভবনে হবে ২৮৮টি দোকান। ৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। কয়েক দফায় মেয়াদ বেড়েছে এ মার্কেট নির্মাণে। এখন আবার করোনার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। একই অবস্থা দেখা দিয়েছে ডিএসসিসির নাসিরাবাদ, দক্ষিণগাঁও, ডেমরা ও মান্ডা এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও। এসব এলাকার উন্নয়নকাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হলেও তা বর্তমানে বন্ধ আছে। ডিএসসিসির চার ইউনিয়নের প্রকল্প পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর আহমেদ জানান, এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি টাকা। উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে ৬৫.৭২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ, ৭.৯৫ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ, ১৭টি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ, ৮৪ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ, ১১৬.১৮ কিলোমিটার রাস্তায় এলইডি বাতি স্থাপনসহ ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।’

ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পও বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ২ নম্বর পলাশী মার্কেট, যাত্রাবাড়ী, কাঁচাবাজার, সূত্রাপুর কাঁচাবাজার, কাপ্তান বাজার (মুরগি পট্টি), বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, ঢাকেশ্বরী রোড সাইড মার্কেট, কাপ্তান বাজার রোড সাইড মার্কেট, সদরঘাট হকার্স মার্কেট, ইসলামবাগ মার্কেট কাম কমিউনিটি সেন্টার, আজিমপুর রোড সাইড মার্কেটসহ কমপক্ষে ১৫টি মার্কেটের কাজ বন্ধ রয়েছে।

ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকতা মো. ইউসুফ আলী সরদার বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাবে আমাদের কিছু কার্যক্রমের গতি মন্থর হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে নির্ধারিত সময়ে দোকান তৈরি হবে না। ফলে বরাদ্দ গ্রহীতারাও তা সময়মতো বুঝে পাবেন না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত