করোনায় মৃত্যু হলে দাফন করব- এমন ঘোষণা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের কিছু তরুণ আলেম আতঙ্কিত নগরবাসীর মনে স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন। অনেকে আশ্বস্ত হয়েছিল, করোনায় মারা গেলে জানাজা ও দাফন পাওয়া যাবে। তাদের এ আহ্বান ভাইরাল হয় ফেইসবুকে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক দিনে নারায়ণগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে কয়েকজন মারা গেলেও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের ডাকে সাড়া মেলেনি সেই আলেমদের।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ এখন করোনায় ডেঞ্জার জোন। প্রতিদিন বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। নারায়ণগঞ্জবাসীও আতঙ্কে ভুগছেন। আর এই আতঙ্কের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দাফন, জানাজা ছাড়া কবর দেওয়া হবে বলে প্রচারিত হচ্ছে। কারণ আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে কেউ দাফন করতে আসবে না। জানাজার নামাজও হবে না- এমন প্রচারও হচ্ছে।
এ অবস্থায় করোনায় মৃতদের দাফনের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসবেন নারায়ণগঞ্জের তরুণ আলেম সমাজ- এমনটাই ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। তারা সব ‘বাধা’বিপত্তি’ মোকাবিলা করে দাফনের দায়িত্ব নেবেন বলে জানিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে তাদের একটি কমিটিও হয়েছে বলে জানিয়েছেন তরুণ আলেম সমাজের নেতৃত্ব প্রদানকারী উলামা পরিষদ নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান।
তবে ইতিমধ্যে শহরের একাধিক মৃত ব্যক্তির পরিবার খুঁজেও তাদের পাননি। সকালে ফোন দেওয়ার পর লাশ দাফন শেষ হলে বিকেলে বা রাতে ফিরতি ফোনে তাদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় ‘কী হয়েছে?’
জানা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে তারা ঝুঁকি নিয়েই দাফন ও জানাজার নামাজ আদায় করবেন, সেই লক্ষ্যে উলামা পরিষদ নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে প্রধান করে একটি কমিটি হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন উলামায়ে পরিষদ নেতা ইসমাঈল হোসাইন সিরাজী, মুফতি হারুন অর রশিদ, মুফতি দেলোয়ার হোসাইন, মাওলানা মীর আহমাদুল্লাহ, হাফেজ মনোয়ার হোসেন, মাওলানা রহমত উল্লাহ বুখারীসহ অন্যান্যরা।
মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান তখন জানিয়েছিলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে যদি কেউ তাদের দাফন করতে না চায়, তাহলে আমরা স্বেচ্ছায় গোসল, জানাজাসহ সবকিছু ব্যবস্থা করব। আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি। যদি নারায়ণগঞ্জের কোথাও এ রকম ঘটনা ঘটে তাহলে আমাদের জানালে আমরা দাফনের ব্যবস্থা করব।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি জামতলায় এক ব্যক্তি করোনার উপসর্গে মারা গেলে দাফনের জন্য অনেকবার মোবাইলে কল দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি এ আলেমদের। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর সেই দাফনের ব্যবস্থা করেন। দাফনের সব কাজ শেষ হওয়ার পর বিকেলে মাওলানা ফেরদৌস সবাইকে ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে করোনা উপসর্গ কিংবা এ রোগে কেউ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে দাফনের ঘোষণা ছিল ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের। সেই ঘোষণা বুধবার দুপুরে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে একজনের দাফন সম্পন্ন করেন তিনি।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা এলাকায় পাঁচ দিন ধরে করোনার উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ থাকায় পর আফতাব উদ্দিন (৭০) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে তাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পক্ষ থেকে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘরের ভেতরে একটি খাটে মৃতদেহ পড়ে থাকলেও পরিবারের কেউ সেটা ধরেনি। পরে কাউন্সিলর লোকজন নিয়ে মৃতদেহ নিয়ে মাসদাইরে কবরস্থানে দাফন করেন।
নাসিক ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, পরিবারের দাবি করোনাভাইরাসের সব উপসর্গ নিয়ে পাঁচ দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। পরে বুধবার দুপুরে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পর পরিবারের কেউ করোনা আতঙ্কে কাছে ঘেঁষছিলেন না। আমাদের দাফনের জন্য অনুরোধ করলে আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সব নিয়ম মেনে মাসদাইরে সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করেছি।
খোরশেদ বলেন, স্বেচ্ছাসেবক আরিফুজ্জামান হীরা, হাফেজ আকরাম ও জুনায়েদকে নিয়ে মেয়র মহোদয় ও ফতুল্লা পুলিশের সহযোগিতায় বাসা থেকে লাশ সংগ্রহ করে, কবর খনন, গোসল ও জানাজা শেষে দাফন করলাম।
