ঢাকার ধামরাইয়ে অভাব-অনটনের কারণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন দুই সন্তানের জননী লাইজু আক্তার।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের কাওয়ালিপাড়া গ্রামে।
সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, কালাম ও তার স্ত্রী স্থানীয় বাজারে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে কালামের পুত্রবধূ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা চেষ্টা করেন। আমরা সময়মতো এসে অঘটনের হাত থেকে রক্ষা করি।
তবে দুই সন্তানের জননী লাইজু আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী সোহেল গার্মেন্টসে চাকরি করতো। বর্তমানে সে বেকার। যার কারণে আমার শ্বশুর আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায়। এ নিয়ে আমাদের মাঝে ঝগড়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান রয়েছে। ছোট ছেলের বয়স ১০ মাস, বড় ছেলে ৬ বছর। এদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। এখন যদি বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাহলে আমি দুটি সন্তান নিয়ে কোথায় যাব? এজন্য আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করি।’
লাইজু আক্তারের স্বামী সোহেল বলেন, ‘আমি গার্মেন্টসে চাকরি করতাম। বেশ কিছুদিন হয় চাকরি চলে গেছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে কোথাও গিয়ে কাজ করতে পারছি না। এখন বাসা থেকে বের করে দিলে কোথায় যাব? আব্বার সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে লাইজু আত্মহত্যার চেষ্টা করে?’
সোহেলের বাবা কালাম বলেন, ‘আমি আর আমার স্ত্রী বাজারে চা বিক্রি করে কোনোমতে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে আছি। একেতো অভাবের সংসার তার ওপরে আবার করোনাভাইরাসের কারণে বাজারে যেতে পারি না। জীবিকা নির্বাহের পথও বন্ধ।’
তিনি বলেন, ‘অভাব সংসারের অবস্থা ভেঙে পড়ছে। এ অবস্থায় ওদের খরচ আমি কী করে বহন করব? সোহেল যদি কাজ করে সংসার চালাতে পারে চালাবে, নয়তোবা আমার বাড়ি থেকে চলে যাবে।’
ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মোল্লা বলেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে আজ গোটা বিশ্ব স্তব্ধ। এ অবস্থায় হতদরিদ্রদের মাঝে আমরা ত্রাণ বিতরণ করছি। যদি কেউ ত্রাণ না পেয়ে থাকে তারা আমাদের জানালে বাড়ি গিয়ে ত্রাণ দিয়ে আসি। কিন্তু এ সময় কেউ যদি পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যা চেষ্টা করে তাহলে এ দায়ভার আমাদের নয়।’
উপজেলার কাওয়ালিপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রাসেল মোল্লা বলেন, এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
