ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাধীন ১০ টাকার চাল বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর চাল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এছাড়া নগরকান্দার কাইচাল ইউনিয়নে ভিজিএফ তালিকায় নিজের পরিবার-পরিজনের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ড মেম্বারের বিরুদ্ধে।
ঘোষপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার খলিলুর রহমান বলেন, বিগত ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থ বছরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য ইউপি চেয়ারম্যান মনগড়া তালিকা করে এসব নামের বিপরীতে চাল তুলে আত্মসাত করছেন।
ওই ইউনিয়নে ১১৫৬ জনকে কার্ড দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে এক তৃতীয়াংশ কার্ড সংশ্লিষ্টদের হাতে না দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই চাল তুলছেন। এরপর অর্থ বছর শেষ হওয়ার আগেই গত মার্চ মাসে তিনি আগের তালিকার এক-তৃতীয়াংশ নাম বাদ দিয়ে নিজের মনমতো নতুন নাম দিয়ে তালিকা করেন।
প্রাপ্ত অভিযোগ মতে, প্রতি ওয়ার্ডে মেম্বারদের থেকে ৫০ জনের নাম নেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৫০ জনেরও বেশি নাম দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। যাদের অনেককে কার্ড না দিয়ে তাদের চাল তুলে নেয়া হয়েছে। এদের অনেকে তাদের নামে কার্ড ইস্যুর বিষয়টিও জানেন না। তারা চালও পাননি।
৯নং ওয়ার্ডের ৯৯৫ নম্বর কার্ডের গৌতম কুমার মন্ডল, ৭নং ওয়ার্ডের গফফার শেখসহ আরো অনেকে বলেন, চাল পাওয়া তো দূরের কথা তাদের নামে কার্ড ইস্যুর বিষয়টিই তারা জানেন না। ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার শহিদুল মাতুব্বর বলেন, আমার ভাইয়ের নামে কার্ড করে চাল তুলে নিয়েছে।
এব্যাপারে ঘোষপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে আমি আবারো নতুন করে তালিকা সংশোধন করে জমা দিয়েছি। বিষয়টি মীমাংসা করা হচ্ছে।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, অভিযোগ পেয়ে ওই ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বর্তমান বরাদ্দের এই চাল বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে, নগরকান্দার কাইচাল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গির হোসেনের বিরুদ্ধে ভিজিএফ তালিকায় নিজের স্ত্রী মাফুজার বেগম, ছেলে সাব্বির হোসেন, ওমর সানি, মালয়েশিয়া ফেরত ভাই বাবুল ও আরেক ভাই লাবলু ও লাবলুর স্ত্রী রেজির নাম দিয়ে চাল তুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, তাড়াহুড়া করে তালিকা করায় কিছু ভুল হয়েছে। সেগুলো সংশোধন করে নিয়েছি।
