দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে করোনার প্রভাব পড়েছে কাঁচা পণ্যের উপর। অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে আদা, রসুন, পেঁয়াজের বাজার। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারী ও খুচরাতে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আদার দাম ৮০ টাকা থেকে ১শ ৮০ টাকায় গিয়ে দাড়িয়েছে। এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সবকিছু বন্ধ থাকায় আয় উপার্জন না থাকায় এমন অবস্থার মাঝে দাম বাড়ার ফলে সাধারন ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন।
শুক্রবার সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একসপ্তাহ আগে যে দেশীয় পেঁয়াজ ৪০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে সেটি বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫টাক। রসুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা দ্বিগুনের বেশি বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে।
বাজার করতে আসা মিনহাজুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে একদিকে যখন সবকিছু বন্ধ থাকায় আমাদের আয় উপার্জন বন্ধ রয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যে বাজারে পেঁয়াজ, আদা, রসুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। একেতো চাল কিনতেই অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে এরউপর নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় আমাদের মতো খেটে খাওয়া সাধারন মানুষদের চরম বিপাকের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। প্রতিদিনই এসব পণ্যের দাম বাড়ছে, কোন নিয়ন্ত্রণ নেই যে যার ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন, তাই এসব পণ্যের মুল্য নিয়ন্ত্রনে রাখতে সরকারের বাজার ব্যবস্থা মনিটরিংয়ের দাবী জানিয়েছেন তারা।
হিলি বাজারের মুদি ব্যবসায়ী শাকিল খান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে দেশের যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন বেশি উৎপাদন হয় ওইসব এলাকায় হাটগুলো সেভাবে বসতে না পারার ফলে এসব পণ্যগুলো ঠিকমতো আসতে পারছেনা। যার কারনে বাজারে চাহীদার তুলনায় পণ্যগুলির সরবরাহ কম থাকার কারনে পণ্যগুলির দাম বাড়ছে। এছাড়াও বিদেশ থেকে এসব পণ্যগুলি আমদানি হলেও বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারনে এখন আমদানি বন্ধ থাকায় পণ্যগুলির সরবরাহ কম রয়েছে যার কারনে বাজারে দাম বাড়ছে। লকডাউন উঠে গেলে বাজারে পণ্যগুলির সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম আবারও কমে আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
