বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে মুন্সীগঞ্জ শহরের মুক্তারপুর এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাক শ্রমিকরা গতকাল সোমবার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। পরে পুলিশ মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা চলে যান।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুক্তারপুরের মদিনা ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারখানার সামনে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কারখানায় ভাঙচুর চালান। শ্রমিকরা জানান, তাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া। মালিক বারবার সময় নিয়েও দিচ্ছেন না।
মুক্তারপুর নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ কবীর হোসেন খান জানান, কারখানা কর্র্তৃপক্ষ বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা শান্ত হয়। এ বিষয়ে মদিনা ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং ফ্যাক্টরির চেয়ারম্যান ইমরান খান জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যেই সবার বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল দুপুরে আদমজী ইপিজেডের স্কিনটেক্স ও বেকা গার্মেন্টসের কয়েকশ’ শ্রমিক শিমরাইল-আদমজী-চাষাড়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। পরে শিল্প পুলিশ-৪ এর সদস্যরা এসে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বেতনের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা চলে যান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতির কারণে স্কিনটেক্স গার্মেন্টসের এক হাজার ৩০০ ও বেকা’র এক হাজার ১০০ শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দিই, দিচ্ছি বলে মালিক টালবাহানা করছেন। বাধ্য হয়েই তারা রাস্তায় নেমেছেন।
শিল্প পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, মালিকপক্ষ আজকের (গতকাল) মধ্যেই শ্রমিকদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যাদের অ্যাকাউন্ট নেই, তাদের যোগাযোগ করতে বলেছেন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হলে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দেন।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেডের শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ওই এলাকায় যানজট দেখা দেয়। শ্রমিকরা জানান, কারখানার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক বিগত তিন মাস বেতন পান না। অনেকের ৫-৭ মাসের বেতন-ভাতাও বকেয়া। করোনা পরিস্থিতিতে সবাই বন্ধ করলেও কারখানাটি চালু। চার দফা প্রতিশ্রুতির পর সোমবার বেতন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন দেওয়া না হলে কারখানার সামনেই শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। পরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল মালিকপক্ষ বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
