সুনামগঞ্জে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আগাম বন্যার পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। ২২ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে সুনামগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ধান কেটে নিতে ১১ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগাম বন্যার আশঙ্কায় হাওরে ধান দ্রুত কেটে নিতে রাতেও প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী ও কৃষকদের নিয়ে ধান কাটলেন জেলা প্রশাসক।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের জোয়াল ভাঙার হাওরে সদর উপজেলা প্রশাসন রাতে ধান কাটার আয়োজন করে।
রাতে ধান কাটার উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো.আব্দুল আহাদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, সদর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ আদনান, সদর কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দিন টিপু, সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র নুরুল ইসলাম বজলু প্রমুখ।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, কাটলে হাওরে ধান মিলবে সরকারি ত্রাণ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা পুরোদমে জেলায় ধান টাকা শুরু করেছি। প্রথম দিকে শ্রমিক সঙ্কট কিছুটা থাকলেও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের হাওরকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন ৪০টি কমবাইন্ড হারভেস্টার মেশিন উপহার দিয়েছেন।
এই ৪০টিসহ মোট ১১২টি মেশিন দিয়ে সব উপজেলায় ধান টাকা শুরু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত হাওরে ১ লাখ ৬১ হাজার হেক্টর জমির মোট ৬৮হাজার হেক্টর জমিতে ৪২ ভাগ পাকা ধান কাটা হয়েছে। আমরা আশা করছি আগাম বন্যার আগেই বেশির ভাগ ফসল কৃষক পাকা ধান কাটতে সক্ষম হবে।
সেই সাথে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। বন্যা আসার আগেই যাতে সব ধান কাটা সম্ভব হয় আমরা সেই চেষ্টা করছি। আমাদের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ছাত্ররাও অংশ নিয়েছে।
এদিকে সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন জেলায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ছাত্র, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগও ধান টাকায় অংশগ্রহণ করছেন।
