প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) বৈশ্বিক ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪০০ বাঙালি মারা গেছেন।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সোমবার ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশ এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছে, শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে করোনা বিরাট একটা সমস্যা। সারা বিশ্বই স্থবির। সবাই ঘরবন্দি।
তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে। উন্নত-অনুন্নত দেশ সব দেশেরই একই অবস্থা। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা শুরু থেকেই নির্দেশনা দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী মানুষ ঘরে থাকার চেষ্টা করছে। এরপরও জীবন-জীবিকার জন্য বাইরে যেতে হয়।
তিনি বলেন, আমরা ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ওএমএসের ৩০ টাকার চাল ১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এজন্য ৫০ লাখ কার্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা আমাদের জন্য বিরাট একটা ধাক্কা। যেসব দেশে রপ্তানি করতাম, সেসব দেশের অর্থনীতি স্থবির।
তিনি বলেন, এখন মানুষের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরীক্ষা করছে। যা হচ্ছে তা বুলেটিন আকারে প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উপস্থাপন করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৪১৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৪৫ জন। বিশ্বে আরও বেশি মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ২ লাখ লোক মারা গেছেন। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ৪০০ জন বাঙালি মারা গেছেন।
তিনি বলেন, ‘এটা একটা অস্বাভাবিক অবস্থা। আমরা এ রকম আর কখনো দেখেনি। বলা হয়ে থাকে শত বছরে একবার এ রকম অবস্থার সৃষ্টি হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চার দফা পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪৮টি জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বাস্থ্যবিধিসমূহ মেনে চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংকট উত্তরণে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজেরও ঘোষণা দেন।
