করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ২৮টি কিন্ডার গার্টেন (কেজি স্কুল) বন্ধ রয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্কুলগুলোর ২৭০ জন শিক্ষক/কর্মচারীরা। স্কুল বন্ধ থাকায় বেতন না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা।
অর্থকষ্টে জীবন-যাপন করা শিক্ষকরা রেশন কার্ড ও নগদ টাকা প্রনোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।
জানা যায়, উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন অন্তর্ভুক্তসহ ২৮টি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে কর্মরত রয়েছেন ২৭০ জন শিক্ষক/কর্মচারী। এ শিক্ষকরা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে থাকেন।
এই কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি দিয়েই চলে। শিক্ষার্থীদের বেতনেই সকল শিক্ষক/কর্মচারীদের বেতন প্রদান করা হয়। কিন্তু করোনায় সরকারি আদেশে গত ১৮ মার্চ হতে সকল কিন্ডার গার্টেন স্কুল বন্ধ থাকায় কোনো বেতন নেই শিক্ষকদের। টিউশন ফি বন্ধ থাকায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক সম্মানীও বন্ধ।
তাছাড়া বাইরে যাওয়া বন্ধ হওয়ায় অনেক শিক্ষকের টিউশনি করারও সুযোগ নেই। শিক্ষক পেশায় থাকায় সমাজে সম্মানীয় হওয়ার কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ গ্রহণ করতেও না পারছেন না অনেকেই।
মেরিট কেয়ার কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ মো. মাসুদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, অর্থ না থাকলেও শিক্ষক পরিচিতির কারণে আমরা অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে পারি না। এখন আমাদের অনেকের চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। চলমান দুর্যোগে কমলগঞ্জের কেজি স্কুলসমূহের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি সহায়তার জন্য আমরা আবেদন জানাচ্ছি। সরকারের কাছে রেশন কার্ড ও নগদ অর্থ প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।
কমলগঞ্জ উপজেলা কিন্ডার গার্টেন স্কুল এসোসিয়েশন সভাপতি মুজিবুর রহমান রঞ্জু দেশ রূপান্তরকে জানান, শিক্ষক ছাড়াও আরও অর্ধশত কর্মচারী এসব স্কুলে নিয়োজিত আছেন। কিছুটা বাড়তি সহায়ক বই যুক্ত করে সরকারি বিধি মেনে সরকারি শিক্ষা কারিকুলাম মেনে ও সরকারি সকল জরিপে অংশগ্রহণ করে কমলগঞ্জে কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোতে পাঠদান করা হয়। শিক্ষার মান ও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল ভালো অর্জন করায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কেজি স্কুলে ভর্তি করান। রেশন কার্ড ও নগদ অর্থ প্রনোদনা প্রদানের দাবি করছি।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে কমলগঞ্জের কেজি স্কুলগুলো অনেকে ভালো করছে। এই বিপদে উপজেলা শিক্ষা পরিবার তাদের পাশে আছে। আপাতত কেজি স্কুলের এসব শিক্ষকদের মাঝে সরকারি ত্রাণ প্রদান করাা উচিত।
