গাজীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং বন্ধ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ এবং অগ্নিসংযোগ করেছে। সোমবার সকালে মহানগরীর ভোগড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভ চলাকালে ওই সড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী গাড়ি আটকে পড়ে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং তিনটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছুঁড়ে পাশের কয়েকটি কারখানায় ভাংচুর করে। পরে গাজীপুরের শিল্প পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর শিল্পপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন জানান, সম্প্রতি ভোগড়া এলাকার স্টাইলিস গার্মেন্টস কারখানা কর্তৃপক্ষ এক মাস আগে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা লে-অফ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। লে-অফ করার আগে ৩০জন শ্রমিকের বেতন এবং ৮০জন স্টাফের ৬০শতাংশ বেতন বকেয়া ছিল। দুইদিন ধরে ওই কারখানার শ্রমিকরা বন্ধ করে দেওয়া কারখানাটি দ্রুত খুলে দেওয়া এবং শ্রমিক-স্টাফদের বকেয়া বেতনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কারখানার সামনে জড়ো হয়। পরে তারা আশে-পাশে থাকা ভলমন্ট ফ্যাশন, ক্রাউন ফ্যাশন, টেকনো ফাইবার নামের পোশাক চলমান কারখানার শ্রমিকদের কাজ না করার আহ্বান জানায় এবং ওইসব কারখানায় ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। একপর্যায়ে তারা ক্রাউন ফ্যাশন কারখানার সামনে মহাসড়কের পাশে পার্কিং করা ৩টি মোটর সাইকেল ও ৮টি বাইসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। প্রথমে তাদের মহাসড়ক ছেঁড়ে যেতে অনুরোধ জানালোও তারা সাড়া না দেয়নি। পরে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিনি বলেন, আমরা শ্রমিক নেতাদের সাথে বসে আলোচনা করেছি। বেতন-ভাতা এগুলো যৌক্তিক দাবি। আমরা বলেছি, কোনো নাশকতার প্রয়োজন নেই। কোনো কারখানায় সমস্যা থাকলে আমাদের জানান- আমরা কথা বলে সমাধান করে দেব।’
এদিকে শিল্প পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, গাজীপুরে মোট কারখানার সংখ্যা দুই হাজার ৭২টি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা ৫২৭টি শিল্প কারখানা খুলেছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ’র ২৯১টি, বিকেএমইএ’র ৩৫টি, বিটিএমইএ’র ২৯টি এবং অন্যান্য ১৭২টি কারখানা রয়েছে। খোলা এসব কারখানা কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের হাত ধোয়া, মাস্ক পরে থাকা, নিরাপদ দূরত্বে থাকা, কারখানায় প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময় দূরত্ব বজায় রাখা- এগুলো প্রতিনিয়ত তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
