তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নেওয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন ডাক্তার-নার্স

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ১২:৫৩ এএম

তথ্য গোপন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এতে করে নিজেরা যেমন জীবনকে সংকটাপন্ন করছেন, তেমনি বিপন্ন করছেন চিকিৎসা সেবাদাতাদের জীবনও। নেতিবাচক এমন প্রবণতায় বাড়ছে করোনাযুদ্ধের প্রথমসারির নায়ক চিকিৎসক-নার্সদের করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা।

অবিশ^াস্য হলেও সত্য এমনটিই ঘটছে ময়মনসিংহে। রোগীদের খামখেয়ালিপনার এমন মাশুল গুনতে হচ্ছে গোটা ময়মনসিংহ বিভাগকে। এতে করে বিভাগে চিকিৎসা সেবাদাতাদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

লকডাউন হচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, শেরপুরের নালিতাবাড়ি ও নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বাড়ছে করোনা রোগীর হার। এ বিভাগে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৮। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দাদের।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১২ এপ্রিল পেটব্যথার কথা বলে এই হাসপাতালে ভর্তি হন গাজীপুরের এক রোগী (৪০)। তাকে ভর্তি করা হয় ১৪ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে। এরপর তার শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শুরুতেই তিনি তথ্য গোপন করায় ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ২৫ রোগীসহ ওয়ার্ডটিকে ‘লকডাউন’ করা হয়। বন্ধ হয়ে যায় কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট। কারণ পরের দিনই তার কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটের ১০ চিকিৎসক, ৯ নার্স ও ৪ ওয়ার্ডবয়কে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতোই একই চিত্র জেলার গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কোনো সেবা মিলছে না। কারণ একটাই, এখানেও এক রোগীর ভুলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-নার্সসহ ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেরপুরের নালিতাবাড়ি ও নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও একই কারণে লকডাউন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবার এই প্রধান আশ্রয়স্থল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এভাবেই লাফিয়ে বাড়ছে। একেকজন রোগী তথ্য গোপন করে ডেকে আনছে ভয়ানক বিপদ। এতে করে সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থাও রীতিমতো হুমকির মুখে পড়েছে। রোগীরা এমন প্রবণতা থেকে বেরিয়ে না এলে চিকিৎসক সংকটে একসময় হাসপাতালটিকেই বন্ধ করে দিতে হবে। ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম মশিউল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় ৮৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের ৪৭ জনের শরীরে পাওয়া গেছে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার জানান, করোনা উপসর্গের তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা থেকে রোগীদের বেরিয়ে আসতে হবে। এভাবে চিকিৎসকরা করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত