বরিশাল মেডিকেলের বার্ন ইউনিট প্রধানের লাশ মিলল লিফটের নিচে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৩০ পিএম

বরিশালে একটি বেসরকারি হাসপাতালের লিফটের নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. এম.এ আজাদ সজলের (৪৬) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

লিফটের নিচে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক বলে মনে করছে পুলিশ। তবে এটি হত্যা না কি দুর্ঘটনা সে ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেনি পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নগরীর কালিবাড়ি সড়কের মমতা স্পেশালাইজড হসপিটালের লিফটের নিচ থেকে ডা. এমএ আজাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

ডা. আজাদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার সোহাগদল। তার স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে থাকেন।

ডা. আজাদের মামা মো. মনির হোসেন সরদার বলেন, ডা. আজাদ বরিশাল মেডিকেলের ডাক্তার হলেও থাকতো মমতা হাসপাতালে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা ঢাকায় থাকে।

তিনি বলেন, সোমবার বিকেলের পর আর আজাদকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। বারবার ফোনে না পেয়ে আজাদের স্ত্রী কোহিনুর বেগম মমতা হাসপাতালের পরিচালক ডা. জহুরুল হক মানিককে ফোন করেন। কিন্তু তারাও কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।

মনির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় আমরা বরিশাল মমতা হাসপাতালে পৌঁছাই। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে আজাদের থাকা কক্ষের সামনে গিয়ে দেখা যায় কক্ষের দরজার সঙ্গে আগের দিনের ইফতারের প্যাকেট ঝুলছে। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে টেবিলের ওপর তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন এবং মানিব্যাগ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এরপর পুরো হাসপাতালের বাথরুমে তল্লাশি শুরু হয়। একপর্যায়ে এক আয়া এসে জানায় আজাদের লাশ লিফটের নিচে পড়ে আছে। লিফটের নিচে লাশ কোনোভাবেই পড়তে পারে না। এটা পরিকল্পিত হত্যা।

ডা. আজাদের চাচা আবদুল করিম শেখ বলেন, ‘এই মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়, এটা হত্যা। পরিকল্পিত হত্যা।’

ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোক্তার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মমতা স্পেশালাইজড হসপিটালের পরিচালক ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জহিরুল হক মানিক বলেন, ডা. আজাদ হাসপাতালের সপ্তম তলার ৮নং কক্ষে থাকতেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিচে নেমেছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালের বয়রা সন্ধ্যায় তার জন্য ইফতার নিয়ে যায়। ওরা গিয়ে দেখে রুম তালা দেওয়া। পরে ওরা দরজার সঙ্গে ইফতার ঝুলিয়ে রাখে। রাত ১০টায় গিয়ে একই অবস্থা দেখে। ভাবছিল যে সে হয়তো বাইরে গেছে।

ডা. জহিরুল বলেন, রাত সাড়ে ৪টার সময় আজাদের স্ত্রী ফোন দেয়। আজাদের ফোন বাজে কিন্তু ধরছে না। এরপর সকালে পুলিশে সংবাদ দিয়ে রুম ভাঙানো হয়। রুমে মোবাইল ও মানি ব্যাগ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এরপর খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এক পর্যায় লিফটের নিচে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এটা কীভাবে হলো বুঝতে পারছি না। লিফটের নিচে পড়াটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কোনো ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কি না জানি না।

দুপুর পৌনে দুইটায় সুরতহাল করা পুলিশ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত ডা. আজাদের ডান হাঁটুর নিচে ভেঙে গেছে। অনেকটা গর্ত হয়ে গেছে। বাম পায়ের গোড়ালির মাংস ছিঁড়ে গেছে। এর বাইরে তার শরীরের অন্য কোথাও আঘাতে চিহ্ন নেই। পুরো তদন্ত না করে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত