লকডাউনে দূষণমুক্ত ইউরোপ, অকালমৃত্যু থেকে বাঁচল ১১,৩০০ ব্যক্তি

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ১১:৪০ এএম

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ঘোষিত লকডাউন জলবায়ু ও প্রকৃতির জন্য অনেকটাই সুখবর নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বায়ু দূষণ কমিয়ে দিয়েছে পৃথিবীর। এটির বেশি প্রভাব পড়েছে ইউরোপে। 

কভিড-১৯ রোগে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত মহাদেশটি। ফলে সংক্রমণ রোধে দেশে দেশে লকডাউন চলছে ইউরোপে। এতে অঞ্চলটি বায়ু দূষণ মুক্ত হয়ে পড়েছে অনেকটা। 

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, লকডাউনের কারণে দূষণ কমে বাতাসের গুণমাণ বেড়ে গেছে। এই সময়ে দূষণের ফলে ১১ হাজার ৩০০ ব্যক্তির অকালমৃত্যু হতো, সেটি এড়ানো গেছে। 

আলজাজিরা জানায়, হেলসিঙ্কি ভিত্তিক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার এই গবেষণা চালায়। 

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ বিশ্লেষক লাউরি মিলিভিরতা বলেন, ‘ইউরোপের প্রত্যেক ব্যক্তি ধূমপান বন্ধ করে দিয়েছে, সেটির সঙ্গে তুলনা করতে পারি এই বায়ু দূষণ হ্রাসকে।’ 

গবেষকদের মতে, বায়ু দূষণের ফলে সৃষ্ট রোগের কারণে এসময় হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। কিন্তু গত এক মাসে লাখ লাখ মানুষ ঘরে বসে থাকার কারণে সেই মৃত্যু নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

লাউরি বলেন,‘দূষণজনিত মৃত্যু থেকে রেহাই পেতে আমাদের গবেষকেরা জনস্বাস্থ্য ও উন্নত জীবনমানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। জীবাশ্ম জ্বালানী রোধ করে স্থায়ীভাবে সেটি অর্জন করা সম্ভব সেটি আমরা দেখিয়েছি।’  

এর আগে মার্চের শেষে এক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, লকডাউনের ফলে সব ধরনের কল-কারখানা ও যানবাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দূষণের মাত্রা কমে এসেছে ইউরোপে।

সেসময় ইউরোপের বায়ুদূষণ হ্রাস নিয়ে একটি মানচিত্র প্রকাশ করে নেদারল্যান্ডসের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কোপারনিকাস সেন্টিনেল-৫পি নামের একটি কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন রয়্যাল নেদারল্যান্ডস মেটেরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট (কেএনএমআই)।

মূলত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারে বাতাসে যে পরিমাণ নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইড জমে, তার তুলনামূলক অবস্থান যাচাই করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে দেখা যায়, গত বছর মার্চের শুরুতে ফ্রান্স-ইতালির বায়ুমণ্ডলে যতখানি লালচে ছোপ ছিল, এ বছরের ১৪-২৫ মার্চের মধ্যে তার ঘনত্ব অনেকটাই কমে এসেছে। কোথাও একেবারে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত