টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে আফগানিস্তানের পেছনে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ০৬:১৪ এএম

আইসিসির টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে চোখ রাখলে এখন একটু চমকে যেতেই পারেন। কারণ, ওখানে বাংলাদেশের আগে পাবেন আফগানিস্তানকে। ৯ নম্বরে আফগানরা। বাংলাদেশ ১০-এ। ভাবতে পারেন তাহলে কি বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে অবনতি হলো বাংলাদেশের?

এই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে কিছু তথ্য জানিয়ে দেওয়া ভালো। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির বিশ্ব র‌্যাংকিং শুক্রবার হালনাগাদ করেছে আইসিসি। তাতে ২০১৬-১৭-এর ফলাফলগুলো মুছে গেছে। হিসাবটা শুরু হয়েছে তারপর থেকে। সাম্প্রতিক আপডেটে ২০১৯-এর মে থেকে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১০০ শতাংশ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে তার আগের দুই বছরের ম্যাচের ৫০ শতাংশ ম্যাচ।

এই বিবেচনাই ভারত ও পাকিস্তানকে যথাক্রমে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টির বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর জায়গা থেকে নামিয়ে দিয়েছে। দুই সংস্করণেরই র‌্যাংকিংয়ের ১ নম্বরে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১৬-১৭-এর ম্যাচগুলো পিছে পড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশও টেস্টে হয়েছে মলিন। ৫ রেটিং পয়েন্ট কমে গেছে তাদের। সেটা পরবর্তী বাজে পারফরম্যান্সের কারণে। ওয়ানডেতে অবশ্য ১ পয়েন্ট বেড়েছে, টি-টোয়েন্টিতে ২।

বাংলাদেশ সবচেয়ে দুর্বল যে সংস্করণে লাভটা হয়েছে সেখানে। আফগানিস্তান ও উইন্ডিজকে পেছনে ফেলে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের ৮ নম্বরে উঠে এসেছে তারা। উইন্ডিজের সমান ২২৯ রেটিং পয়েন্ট বাংলাদেশের। তবে ভগ্নাংশের হিসাবে এগিয়ে থেকে অবস্থানে উন্নতি তাদের।

ওয়ানডেতেও ব্যাপারটাকে উন্নতির পর্যায়ে রাখা যায়। ৮৮ পয়েন্ট নিয়ে সাতে তারা। শ্রীলঙ্কা, উইন্ডিজ ও আফগানিস্তান পরের তিন দল।

কিন্তু অস্বস্তির কাঁটা বিধিয়ে যাচ্ছে টেস্ট। বাংলাদেশকে এটা অনেকটা জেগে ওঠার ডাক দিয়ে গেল। মাত্র ৩ টেস্ট খেলা আফগানিস্তান দুটিতে জিতেছে। এর একটি বাংলাদেশের বিপক্ষে। তাদের রেটিং পয়েন্ট এখন ৫৭। বাংলাদেশের কমে ৫৫। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে করোনা-পরবর্তী বিশ্বে বাংলাদেশকে টেস্টে ভালো করতেই হবে। হতে হবে ধারাবাহিক।

অস্বস্তির মধ্যে এই মুহূর্তে স্বস্তির বিষয় এই যে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড এখনো বিশ্ব টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের জন্য বিবেচিত হচ্ছে না। কারণ, বিবেচিত হওয়ার মতো যথেষ্ট টেস্ট তারা এখনো খেলতে পারেনি।

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষের লড়াইটা দেখার মতো। অস্ট্রেলিয়া ১১৫ পয়েন্টের কারণে ভারতকে টপকে বিশ্বের এক নম্বর দল এখন। ১১৫ পয়েন্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয়। ভারত তৃতীয় ১১৪ পয়েন্ট নিয়ে। মাত্র ২ পয়েন্ট এই তিন দলকে আলাদা করে প্রথম তিন আসনে রেখেছে। ২০০৩ সালে টেস্ট র‌্যাংকিং চালু হওয়ার পর শীর্ষস্থানের জন্য এটা দ্বিতীয় টানটান লড়াই। সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। সেবার ১ পয়েন্টের ব্যবধান ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে আলাদা করেছিল।

২০১৬ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম শীর্ষস্থান হারাল ভারত। এর অন্যতম কারণ ২০১৬-১৭তে তাদের জেতা ১২ টেস্টের রেকর্ড বর্তমান আপডেট থেকে মুছে যাওয়ায়। বাংলাদেশকে যেমন ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই সময়ের জয় বিবেচনার বাইরে চলে যাওয়ায় পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। ওই সময়ে ভারত অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেসহ ৫টি টেস্ট সিরিজই জিতেছিল। অন্যদিকে তখন অস্ট্রেলিয়া হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে।

টেস্টে সবচেয়ে বড় পতনটা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। ৮ পয়েন্ট হারানোয় ৬ নম্বরে নেমে গেছে তারা। বিবেচিত সময়ে প্রোটিয়ারা তিনটি সিরিজ জিতলেও ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ টেস্টের ৮টিতে হেরেছে তারা। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে ইংল্যান্ড ৪, শ্রীলঙ্কা ৫, পাকিস্তান ৭ ও উইন্ডিজ ৮ নম্বরে।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের ১ নম্বরেই আছে ইংল্যান্ড। দুইয়ে ভারত। তেমন হেলদোল নেই শীর্ষে। এরপর যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, উইন্ডিজ ও আফগানিস্তান।

তুলনায় ব্যাপক ওলট-পালট ঘটেছে টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে। ২৭৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো এই সংস্করণের বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বরে উঠে এলো অস্ট্রেলিয়া। ২০১১ সালে টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিং চালু হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে টানা ২৭ মাস ১ নম্বরে থাকা পাকিস্তানের বড় অবনতি হয়েছে। ২৬০ পয়েন্ট নিয়ে ৪ নম্বরে নেমে গেছে। ইংল্যান্ড উঠে এসেছে ২ নম্বরে। একধাপ উন্নতি করে ভারত এখন তিনে। পাঁচে দক্ষিণ আফ্রিকা, ছয়ে নিউজিল্যান্ড, সাতে শ্রীলঙ্কা, আটে বাংলাদেশ, নয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দশে আফগানিস্তান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত