ধারণার চেয়েও উষ্ণ হচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ১১:৩১ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় পৃথিবীর মানুষকে খুব জলদিই চরম মূল্য দিতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়ে এক ডিগ্রি করে সেলসিয়াস করে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একশ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত বা অসহনীয় তাপ ভোগ করতে হবে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের একভাগ যে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বাস করে, আগামী ৫০ বছরে ওই অঞ্চলগুলোতে সাহারা মরুভূমির মতো তাপ অনুভূত হবে। এতে ১২০ কোটির বেশি মানুষকে তাদের নিরাপদ স্থান ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বাস করতে হবে বাধ্য হয়ে। গবেষণাপত্রটির গবেষকদের মতে, তারা গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে বিস্মিত হয়ে যান এই দেখে যে, মানবপ্রজাতি কতটা ঝুঁকির মধ্যে আছে।

এক্সটার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিম লেন্টন বলেন, ‘গবেষণায় প্রাপ্ত সংখ্যা আসলে হতবুদ্ধিকর। আমার আগের করা গবেষণার চেয়েও আরও ভীতিকর। এই অবস্থাকে আমরা প্রলয়ের সঙ্গে তুলনা করতে পারি।’ এই গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রভাবগুলোর চেয়ে শুধু মানবপ্রজাতির ওপর প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা অনুসারে যেসব অঞ্চলের গড় তাপমাত্র ছয় সেলসিয়াস থেকে ২৮ সেলসিয়াস, সেখানেই মানুষ বাস করে। এই তাপমাত্রা মানুষের স্বাস্থ্য ও খাদ্য উৎপাদনের জন্য অনুকূলের। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সুবিধাজনক অঞ্চলের সীমানা পাল্টে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের ‘সুখের ঠিকানা’ ধারণা পাল্টে যাচ্ছে। আফ্রিকা ও এশিয়া ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৩০ শতাংশ বৈশ্বিক জনসংখ্যা তীব্র তাপমাত্রার মধ্যে বাস করতে বাধ্য হবে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে ভারতের ১২০ কোটি, নাইজেরিয়ার ৪৮ কোটি ৫০ লাখ, পাকিস্তান-ইন্দোনেশিয়া ও সুদানের ১০ কোটি করে মানুষকে পরিবর্তিত তাপমাত্রায় বাস করতে হবে। ওয়াগেনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্টিন শিফারের মতে, ‘আমার মনে হয় ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ক্রমাগত থাকা অবিশ্বাস্য। কিন্তু এ অবস্থায় মানিয়ে নিতে হবে। এই মানিয়ে নেওয়ার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আপনার অনেক টাকা ও জ্বালানি থাকলে এয়ারকন্ডিশনার চালিয়ে খাবার আনিয়ে ভালো থাকতে পারবেন। কিন্তু এমনটা অধিকাংশ মানুষের পক্ষে সম্ভব না। গত ৫০ বছরে যে পরিবর্তন হবে তা বিগত ছয় হাজার বছরেও হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত