অনেকের রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে। রোজায় তাদের একটু সচেতন থাকতে হয়, যেন কোলেস্টেরল বেড়ে না যায়। কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের কোষের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। শরীরে ভালো ও খারাপ দুই ধরনের কোলেস্টেরল আছে। আমরা রক্ত পরীক্ষা করে যে রিপোর্ট পাই, তা ভালো কোলেস্টেরল। শরীর সুস্থ রাখতে হলে দুই ধরনের কোলেস্টেরলই নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকতে হবে। নির্দিষ্ট মাত্রার ব্যাঘাত ঘটলেই শরীরে ঘটে নানা দুর্ঘটনা।
কী সমস্যা দেখা দিতে পারে
রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল থাকলে সেগুলো রক্তনালিতে জমাট বাঁধে। রক্তনালির একটি নির্দিষ্ট ডায়ামিটার রয়েছে। যখন এটি জমা হয় ডায়ামিটারটি আস্তে আস্তে সংকুচিত হয়ে যায়। রক্তনালির ভেতর দিয়ে রক্ত যায়। কোলেস্টেরল জমাট বাঁধলে স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ রক্ত যাওয়ার কথা, সে পরিমাণ রক্ত যেতে পারে না। এই রক্ত আমাদের টিস্যুতে অক্সিজেন ও খাবার পরিবহন করে। হার্টের রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমা হলে হার্ট ব্লক হয়ে যাবে। রক্তে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়লে রক্তনালিতে ব্লক হওয়ার ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যায়। স্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
রক্তে কোলেস্টেরল বেশি বুঝবেন যেভাবে
কারও কারও ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ থাকে না।
হঠাৎ ওজন বেড়ে যায়।
মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক বন্ধ বা অস্বাভাবিক হয়ে যায়।
হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক হওয়া।
সহযোগী রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার হলে।
ছেলেদের ক্ষেত্রে ইরেক্টাইল ডিস্ফাংশন, মেয়েদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি।
কোলেস্টেরল বেশি হলে করণীয়
উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজন ঠিক রাখতে হবে।
ফাস্টফুড পরিহার করতে হবে।
পরিমিত আহার গ্রহণ করা জরুরি।
চর্বি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খাওয়া।
নিয়মিত ২০-৩০ মিনিট হাঁটতে ও ব্যায়াম করতে হবে।
ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
কী ওষুধ খেতে হবে
বেশ কয়েক ধরনের কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়, যেমন স্ট্যাটিন, ফেনোফাইব্রেট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ইত্যাদি। কোলেস্টেরলের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী আপনার চিকিৎসক ওষুধের গ্রুপ ও মাত্রা ঠিক করে দেবেন। তাই রোজা রাখার পরও যদি কোনো ধরনের সমস্যা হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।