থেমে নেই বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা-বাগানের শ্রমিকদের কাজ

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ০৪:০১ পিএম

করোনার প্রভাব পড়েছে দেশের সর্বত্র। তারপর ্ও মানুষের জীবন জীবিকা থেমে নেই। তেমনি থেমে নেই বাঁশখালীর বেঁলগাও চা বাগানে কর্মরত ৭ শতাধিক শ্রমিকের কর্মজীবন।

এ সময় বাঁশখালীর বিশাল এ চা বাগানজুড়ে ছিল পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আনাগোনায় মুখর কিন্ত করোনা পরিস্থিতির কারণে এসব বন্ধ এখন। তবে চা বাগানের অভ্যন্তরে থাকা শ্রমিকেরা করোনার নিয়মনীতি মেনে নিয়মিত হাত ধোয়া, বাসাবাড়িতে ব্লিচিং পাউড়ার ছিটানো, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করা সব মেনে তাদের কর্মজীবন চলমান রয়েছে।

তার মধ্যে কয়দিন আগে চা বাগান শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৩৭৮ জন শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয় বলে জানান বৈলগাঁও চা  বাগানের ম্যানেজার মো. আবুল বাশার।

তিনি কর্মরত সকল শ্রমিকদের এর আওতায় আনার জন্য সরকার ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

একদিনে করোনার প্রভাব তার মধ্যে আগামী ১৩ মে দেশের প্রথম চা নিলাম চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সবুজের সমারোহে ছেয়ে গেছে বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা বাগান। চা বাগানে কচি পাতা আর ক্লোন চা উৎপাদন করায় এই বাগানটি বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানে রয়েছে।

বাঁশখালীতে অবস্থিত ৩ হাজার ৪ শত ৭২.৫৩ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই চা-বাগানটির দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।

প্রতিদিন ৭ শতাধিক শ্রমিক এই চা বাগানে তাদের শ্রমের মাধ্যমে নতুন পাতা উৎপাদন ট্রেসিং থেকে শুরু করে চা-বাগানের সামগ্রিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চা বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চা বাগানের অভ্যন্তরে ৭ শতাধিক কর্মচারী নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহ অন্যান্য সার্বিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে বলে জানান পুকুরিয়া বেঁলগাও চা-বাগানের ম্যানেজার মো. আবুল বাশার। বৃষ্টি কম হওয়ায় পাতা উৎপাদনে সমস্যা সৃষ্টি হলেও চা-বাগান কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিদিন বাগানের সর্বত্র আধুনিক উপায়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করায় প্রতিদিনই নতুন নতুন কচি পাতা গজে উঠছে।

বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা বাগানের চা পাতা সারা দেশে সুখ্যাতি রয়েছে এই মানের জন্য চা বাগানের কর্মরতরা প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদন যত বৃদ্ধি পায় সরকার রাজস্ব তত বেশি পায়। বর্তমানে চা পাতার বিক্রিত অর্থ থেকে সরকার ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পান।

তবে তিনি বাগানের কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, চা বাগানের চার পাশে ঘেরা বেড়া না থাকায় প্রতিদিন হাতির পাল চা বাগানে ছুটে আসে। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রায় সময় শংকিত অবস্থায় থাকে।

তিনি সরকারি এই রাজস্ব আয়ের অন্যতম চা-বাগানের যাতায়াতের সড়কটি সংস্কার করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত