জাভেদ ‘করোনা আক্রান্ত’ ও তামিমের দুঃখপ্রকাশ

আপডেট : ১১ মে ২০২০, ১০:৫৭ পিএম

জাভেদ ওমর বেলিমের পোড়া কপাল। আজকাল কী সব কারণে যে খবর হচ্ছেন! তবু হাসি থাকে কথায়ও। কষ্টটা বোঝা যায়। ‘এই জেনারেশন আমাকে ভুলে গেছে বলে হয়তো এভাবে ওদের মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে!’ জাভেদ ওমরের ভাষায়, ‘এসব তো নেগেটিভ।’ হালকা হাসিতে সবসময় আশাবাদী মানুষ জাভেদ বলেন, ‘হয়তো এর মধ্যেই ভালো কিছু আছে।’

রবিবার রাতে তামিম ইকবালের নিয়মিত ফেইসবুক লাইভ শোতে হাজির হয়েছিলেন দেশের তিন সাবেক অধিনায়ক। নাঈমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাহমুদ সুজন ও হাবিবুল বাশার সুমনকে নিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের আলোচনায় দর্শকদের অজানা অনেক কিছু জানিয়েছেন তামিম। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিমকে অবশ্য শো শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে নিজের অফিশিয়াল পেজে ক্ষমা চেয়ে একটা সংশোধনী দিতে হয়। সেটা জাভেদ ওমরকে নিয়ে।

‘জাভেদ ওমর বেলিম ভাইয়ের কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি। আজকে (রবিবার) ফেইসবুক লাইভে সাবেক তিন অধিনায়কের সঙ্গে আড্ডার সময় আমরা বলেছিলাম যে, জাভেদ ভাই কভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন।’ তামিম লিখেছেন, ‘আসলে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, ভুল তথ্য পেয়েছিলাম আমরা। জাভেদ ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, উনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন। সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।’

‘দেশ রূপান্তর’কে জাভেদ জানিয়েছেন পুরোপুরি সুস্থ আছেন তিনি। কোনো সমস্যা নেই। এর আগে গত মাসে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি নাকি জাভেদকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো দায়িত্ব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এই খবর প্রকাশ পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন নিশ্চিত করেন, এমন কিছু ঘটেনি। খবরটা ঠিক নয়। এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভুল খবর তামিম, সুমন, সুজন, দুর্জয়দের আড্ডা থেকে বেরিয়ে এসে আঘাত করে গেল জাভেদকে।

‘মিস্টার ফিফটি’র আফসোস

৫০ টেস্টে হাবিবুল বাশার সুমনের সেঞ্চুরি মোটে তিনটি। ফিফটি ২৪টি। আড্ডায় তামিম ইকবালের প্রশ্ন ছিল, ‘এত বেশি ফিফটি আপনার। সেজন্য কি আফসোস হয়?’ ‘হ্যাঁ হয়। খুব বেশি’ সুমনের এই জবাবের পরপরই খালেদ মাহমুদ সুজন মনে করিয়ে দেন, ‘মিস্টার ফিফটি।’

সুমন বলেন, ‘হ্যাঁ মিস্টার ফিফটি।’ এই নাম হয়ে গিয়েছিল সুমনের। ফিফটি করতেন। সেঞ্চুরির আশা জাগাতেন। কিন্তু করতে পারতেন না। তাই ওই নাম। ‘মিস্টার ফিফটি... তখন শুনতে ভালোই লাগত। এখন ভালো লাগে না।’ সুমন বলছিলেন, ‘২৪টা ফিফটি... ৮টা বা ১০টা সেঞ্চুরি হলে ভালো লাগত। প্রথম পঞ্চাশ করা তো কঠিন। কঠিন কাজটা খুব আরামে করতাম। পরের কাজটা করতে পারতাম না।’ 

আমাকে মেরেই ফেলবে : তামিম

বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার পাকিস্তানের শোয়েব আখতার। আগুনের গোলা ছুড়তেন। খালেদ মাহমুদ সুজন এই বোলারকে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে লাইভে বলছিলেন, ‘আমি অনেককে বিশ্বাস করাতে পারি না। শোয়েবের প্রথম বল আমি আসলে চোখেই দেখিনি।’

শোয়েবকে খেলা কতটা ভয়ংকর ছিল তা এরপর জানান তামিম। এই স্পিডস্টারকে খেলতে গিয়ে তার মনে হয়েছিল মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে। যেন তাকে মেরেই ফেলবেন শোয়েব! ‘অনেক ফাস্ট বোলারকে খেলেছি। ১৫০ কিলোমিটার গতির বল খেলেছি অনেক, কিন্তু ব্যাটিং করতে গিয়ে একবারই ভয় পেয়েছি যখন শোয়েব আখতারকে প্রথম খেলেছি।’ তামিম সেই মুহূর্তের অনুভূতি টেনে এনে বলেন, ‘ওইদিন মনে হয়েছে সে আমাকে মেরে ফেলবে। এতটাই ভয় ধরানো ছিল তার বোলিং।’

২০০৭ সালে প্রথমবার শোয়েবকে খেলতে নেমে কিছুই করতে পারেননি তামিম। খুব আক্রমণাত্মক ছিলেন। ৪ বল খেলে ১ রানে আউট হয়ে যান। শোয়েবের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন। ২০১০ সালে আরেকবার দেখা হলে শোয়েবের ৮ বল খেলেন। আউট হননি তার বলে।

সুজনের মৃত্যুর জন্য তামিম দায়ী থাকতেন!

তামিমকে প্রথম দেখা, তার প্রিমিয়ার লিগ অভিষেক এবং আরও কিছু বিষয় নিয়ে বলছিলেন সুজন। তামিম শেষে এই আলাপে যোগ করেন নতুন মাত্রা, ‘সুজন ভাই হয়তো আজ বেঁচেই থাকতেন না... আমাদের মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছিল নিউজিল্যান্ডে।’

সুজন এরপর বলেন, ‘মনে আছে। তখন আমি সহকারী কোচ। তামিম আমাকে ১৮ গজ থেকে বল করতে বলল, জোরে খেলার জন্য। এরপর একটা বলে ড্রাইভ খেলেছে। আমি মাথা সরানোর সময়ও পাইনি ঠিকমতো। এত কাছ থেকে গেছে... শেষে পিঠে স্পর্শ করে বলটা চলে গেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত