রণেশ ঠাকুরের পুড়ে যাওয়া গানের ঘর পরিদর্শনে পুলিশ ও প্রশাসন

আপডেট : ১৯ মে ২০২০, ০৮:৫৯ পিএম

সুনামগ‌ঞ্জে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল ক‌রিমের শিষ্য রণেশ ঠাকুরের চল্লিশ বছর ধরে লিখে রাখা সাধনার গানের বই ও বাদ্যযন্ত্রসহ ‘গানের ঘর’ পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার দুপুরে দিরাই‌ উপজেলার উজানধল গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।

সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েৎ হোসেন ও দিরাই থানার ওসি কেএম নজরুল ইসলাম উজানধলে গিয়ে এই বিষয়ে গ্রামের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাউল রণেশ ঠাকুরকে ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর মেরামত করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এছাড়া তার পুড়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্রসহ যাবতীয় ক্ষতিপূরণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফি উল্লাহ।

এদিকে উপজেলার ধল গ্রামের স্থানীরা বলেন, গ্রামের একটি অংশ যারা এর আগে শাহ্ আব্দুল করিমের বাড়িতে হামলা করেছিল তারা প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। গ্রামের ওই অংশটিই রণেশ ঠাকুরের বাউল গানের ঘরে আগুন দেয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় তাড়ল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ বলেন, যারা শাহ্ আব্দুল করিমের বাড়িতে হামলা করেছিল, তারা কোন না কোন ভাবে এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। গ্রামের একটা অংশ চায় না শাহ আব্দুল করিমের বাড়িতে গানের আসর বসুক। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে হয়তো এ ঘটনার আসল অপরাধীরা ধরা পড়বে।

বাউল রণেশ ঠাকুর বলেন, গ্রামের বা আশপাশের কারও সঙ্গেই তার কোন শত্রুতা নেই। কারা যে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তা তিনি বুঝতেই পারছেন না। তবে যারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শাস্তি দাবি করেছেন এই বাউল।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছেন। যারাই এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের ধারণা আশপাশের মানুষ এ ঘটনায় জড়িত রয়েছে। এই সময়ে দূর থেকে এসে এমন কাজ করা কঠিন। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।

প্রসঙ্গত, রবিবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে বাউল রণেশ ঠাকুরের দোতারা, বেহালা, হারমো‌নিয়ামসহ গান গাওয়ার সব যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের একপাশে দুটো ভেড়া ছিল। এগুলো বের করে দিয়ে আগুন ধরানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত