বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের বসবাস। আর এই সাগরেই মানব ইতিহাসের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রাণঘাতী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলো হয়েছে। ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ডের এক তালিকা অনুসারে, ইতিহাসে এ পর্যন্ত হওয়া ৩৫টি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে ২৬টিই বঙ্গোপসাগরে। এই অঞ্চলেই ঘনীভূত হওয়া সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়টির নাম আম্পান, যাকে সুপার সাইক্লোন বলা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, আজ বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়বে আম্পান।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অঞ্চলের অবতল উপসাগরের পানি প্রচণ্ড বাতাসে ফুঁসে উঠে সহজেই সাইক্লোনে রূপ নেয়। আর ওই সাইক্লোনই ঝড়ের রূপ নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে। আবহাওয়াবিদ বব হেনসন জানান, বঙ্গোপসাগরের বক্ষে থাকা তাপমাত্রার কারণে অল্পতেই শক্তিশালী সাইক্লোনের সৃষ্টি হতে পারে। এটা খুবই উষ্ণ সাগর।
পৃথিবীতে আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ উপকূল রয়েছে; যেমন লুইজিয়ানার উপসাগরীয় উপকূল। কিন্তু বঙ্গোপসারের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল পৃথিবীর অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে ভয়ংকর। এই অঞ্চলেই ১৯৯৯ সালে সুপার সাইক্লোনের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘূর্ণিঝড়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ১০ হাজার মানুষ মারা যায়। ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার অতিক্রম করে, তখনই একে সুপার সাইক্লোন বলা হয়। এই সাইক্লোনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে। বিক্ষুব্ধ ঢেউ আর ভারী বর্ষণে বন্যারও সৃষ্টি হয়।
অন্য সময় ঘূর্ণিঝড় হলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ কাছাকাছি সাইক্লোন শেল্টারে জীবন বাঁচাতে যায়। কিন্তু সংক্রামক রোগ করোনাভাইরাসের এই সময়ে সাইক্লোন শেল্টারগুলোও হতে যাচ্ছে ভয়াবহ আতঙ্কের জায়গা। বিবিসির এক রিপোর্টে বলা হয়, ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের বহু মানুষ লকডাউনের মধ্যে হেঁটে দূরবর্তী সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে যাচ্ছেন, যেখানে মানুষের চাপ তুলনামূলক কম।
১৯৭০ সালে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ‘ঘূর্ণিঝড় ভোলা’য় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তখন সাগরের পানি ১০ দশমিক ৪ ফুট উপরে আছড়ে পড়েছিল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. অমৃত জানান, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বঙ্গোপসাগরে সাইক্লোনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাইক্লোন নার্গিসের আঘাতে কমপক্ষে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যায় এবং ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ২০০৮ সালের মে মাসে মিয়ানমারের ইরাবতী ডেল্টায় আঘাত হানে সাইক্লোনটি।
