রাজ-শুভশ্রী, শ্রাবন্তী থেকে পায়েল সরকার, অরিন্দম শীল, অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলাসহ কলকাতার তারকারা ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ধ্বংসের নির্মম চিত্রনাট্য দেখলেন।
আম্পানের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। এ দিন তা চরম আকার ধারণ করে। সারা দিন বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ সুন্দরবনে আম্পান আছড়ে পড়লে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কলকাতায় আম্পানের গতিবেগ ছিল সর্বোচ্চ, ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার।
কলকাতার মেট্রোপলিটন বাইপাসের বহুতল 'আরবানা' এমন এক বহুতল যেখানে টলিউডের বহু সেলিব্রিটির ভিড়। কে নেই সেখানে? রাজ-শুভশ্রী, শ্রাবন্তী থেকে পায়েল সরকার, অরিন্দম শীল। সেই ভয়ংকর রাতের কথা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তারা। ঝড় যে আসবে তা জানতেন সবাই। কিন্তু হাইরাইজে বসে যে আম্পানের তাণ্ডব নৃত্য দেখতে হবে তা কেউই ভাবেন নি।
পরিচালক অরিন্দম শীল বলেন, আমি ৪৪ তলায় থাকি। আমার উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিম খোলা। তাই পূর্ব গতির ঝড় আমার বাড়িতে তার চিহ্ন রেখে যায়নি। তবে পুব দিকে মুখ করা টাওয়ারের কয়েকটা বাড়িতে কাচ ভেঙেছে। আর আমরা তিন ঘণ্টা ধরে শুধু দুলেছি। আমাদের অ্যাপার্টমেন্ট সারাক্ষণ দুলেছে। প্রচুর গাছ পড়েছে। গাছের দিকটা কেমন শ্মশানের মতো দেখাচ্ছে!
ফ্ল্যাটে একাই থাকেন পায়েল। তিনি বলেন, আমি খুব একটা ভয় পাই না। কিন্তু এত ভয় জীবনে কোনোদিন পাইনি ।একটা জানলা বন্ধ করতে গিয়ে আর একটা জানলা খুলে চলে গেল!
রাজের বাড়িতেও একই অবস্থা। শুভশ্রী অন্তঃসত্ত্বা। বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা। তারই মধ্যে আম্পানের তাণ্ডব লীলা। রাজের বাড়িতেও ভেঙে গিয়েছিল জানলা। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন না হলেও যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন। ফোনের নেটওয়ার্ক থেকে ওয়াইফাই, কিছুই কাজ করেনি সে দিন। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। শুভ প্রেগন্যান্ট। সবাই প্যানিক করছি। চোখের সামনে কাচ ভাঙল! পানি যে কোথা থেকে ঢুকছে বুঝতেই পারছি না। আর সব দুলছে। মাথা ঘুরছে সকলের।
শ্রাবন্তী 'আরবানা' থেকেই লাইভ করে ঝড়ের বীভৎস রূপ দেখান। তিনি বলেন, শুধু মানুষ নয়, আমার পোষা প্রাণীগুলো ভয়ে কেমন কুঁকড়ে ছিল।
অন্য দিকে ট্যাংরার এক হাইরাইজে বসে অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা সে দিনই প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন প্রকৃতির কাছে তাঁরা কি অসহায়।
অঙ্কুশ বলেন, মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। ফ্ল্যাটের জানলার কাচ ভেঙে গেল হঠাৎ করে। জল ভেতরে আসতে লাগল প্রবল বেগে। বাথরুম থেকে ফলস সিলিং খসে পড়তে লাগল। মনে হলো, এ যাত্রায় বুঝি আর রক্ষে নেই। দুদিন কেটে গিয়েছে। এখনও আতঙ্কে রয়েছেন অঙ্কুশ। সেই রাতের কথা ভাবলেই গা শিউরে উঠছে তার।
অভিনেত্রী রুক্মিণীর গাড়ির গাছ পড়ে আম্পানের ক্ষত রেখে গেছে। তিনি বলেন, পাঁচ তলার ফ্ল্যাটে থাকি আমি। গাছ পড়ে কমপ্লেক্সের দুটো গাড়ি নষ্ট হলো। চারিদিকে তো আরও খারাপ অবস্থা!
সাউথ সিটির ১৮ তলার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা লেখক, বাংলা ধারাবাহিকের প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, এত ঘন অন্ধকার জীবনে দেখিনি। তার সঙ্গে শো শো আওয়াজ! দুম করে কাচ ভাঙল আর হু হু করে জল ঢুকল! কমপ্লেক্স থেকেই গ্যাস বন্ধ করতে বলা হলো।
সূত্র: আনন্দবাজার
