করোনা চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ছাড়বে না ব্রাজিল

আপডেট : ২৬ মে ২০২০, ০২:০৬ পিএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বন্ধ করার আহ্বান জানালেও তাতে পাত্তা দিচ্ছে না ব্রাজিল। কভিড-১৯ চিকিৎসায় এই ওষুধ প্রয়োগ চালিয়ে যাবে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে সাফাই গাইতে দেখা গেছে। তাদের দাবি, ম্যালেরিয়ার এই ওষুধটি নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে বেশ কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়, কভিড-১৯ চিকিৎসায় ওষুধটির তেমন কার্যকারিতা নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ওষুধ গ্রহণে ঝুঁকিতে পড়ে যায় রোগী।

সবশেষ শুক্রবার স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল দ্য লেনসেটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন আসলে করোনা সারাতে কার্যকরী না বরং আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

এমন অবস্থায় সোমবার কভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার বন্ধ করার ঘোষণা দেয় ডব্লিউএইচও।

কিন্তু এই নির্দেশনা ব্রাজিল মানবে না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মায়রা পিনহেইরো- “বিষয়টি নিয়ে আমরা চুপ আছি। আমাদের কোনো কিছুতে পরিবর্তন হবে না।”

ল্যানসেটের গবেষণা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তিনি বলেন- “এটা কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নয়, কেবল বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা উপাত্ত। এটা ব্রাজিলসহ বিশ্বের কোনো দেশ কর্তৃক পদ্ধতিগতভাবে সূত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

করোনা রোগীদের শুরু থেকেই ক্লোরোকুইন বা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দিতে ব্রাজিলের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের নির্দেশনা আছে।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেলসন টেইকের পদত্যাগের পর পরই এই নির্দেশনা অন্তর্ভূক্ত করা হয়। করোনা চিকিৎসায় এই ভাইরাস অন্তর্ভূক্ত করতে প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো তাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে ব্রাজিল এখন দ্বিতীয়স্থানে, প্রায় পৌনে ৪ লাখ। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ মানুষের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত