আনন্দের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে ঈদুল ফিতরের আগমন ঘটলেও সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ছিল এবারের ঈদ। এমন ঈদের সাক্ষী পূর্বে কখনো হয়নি মুসলিম জাতি।
এমন অপ্রত্যাশিত ঈদে হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী ও ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করে ‘হাসির প্রত্যয় ফাউন্ডেশন’।
ঈদের আগের দিন সেমাই এবং ঈদের দিন খিঁচুড়ি রান্না করে মাঝরাতে সদরঘাট, ভিক্টোরিয়া পার্ক ও জজকো্র্ট এলাকায় ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল ভাসমান মানুষের মাঝে বিতরণ করেন এই ফাউন্ডেশনের একদল তরুণ।
মাঝ রাতে সেমাই বিতরণের খবর শুনে পার্কের পাশে কিংবা রাস্তার পাশে শুয়ে থাকা মানুষগুলোর ভিড় জমাতে থাকে। আর হাসির প্রত্যয় ফাউন্ডেশনের কর্মীরা যতটুকু সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে তাদের হাতে খাবার তুলে দেন। এ সময় ছিন্নমূল মানুষের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক ও আনন্দের বন্যা ফুটে উঠে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এই ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য হচ্ছে কীভাবে সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটানো সম্ভব আমরা এটা নিয়ে সর্বদা কাজ করে যাবো।
যারা চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ক্ষুধার্তদের খাবারের ব্যবস্থা করা, কর্মহীনদের কাজের ব্যবস্থা করা এবং কীভাবে বয়স্কদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায় এটাই হচ্ছে আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, এটি একটি নন-প্রোফিট অরগানাইজেশান। মানুষের কল্যাণে এই ফাউন্ডেশন সব সময় কাজ করে যাবে।
কবি নজরুল সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিলকী আমাতুল মুগনী বলেন, এই সংগঠনের সাথে থেকে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি আনন্দিত। আমার শিক্ষার্থীদের এই মানবিক কর্মকাণ্ডে আমি মুগ্ধ এবং একজন শিক্ষক হিসেবে গর্বিত।
সংগঠনটির কর্মী নুরে আলম সাইমন জানান, বছর ঘুরে দুটি ঈদ আমাদের মাঝে আসে, কিন্তু এবারের মতো এমন আতঙ্কের ঈদ কখনো দেখা হয়নি আমাদের। ঈদে সাধারণত আমাদের হরেক রকমের নতুন জামা থেকে শুরু করে বাহারি রকমের খাবারের আয়োজন হয়ে থাকে আমাদের বাসা-বাড়িতে। কিন্তু এই ছিন্নমূল মানুষের জীবনের ঈদ আনন্দের গল্পটা আমাদের বিপরীত। তারা আমাদের দিকে মুখিয়ে থাকে হয়তো আমারা নতুন কোনো জামা-কাপড় নিয়ে তাদের কাছে আসবো নয়তো কোনো খাবার নিয়ে। আমরা আমাদের ফাউন্ডেশনের কর্মীদের উদ্যোগে সেমাই বিতরণের মাধ্যমে এসব ছিন্নমূল মানুষের সাথে একটু আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করেছি মাত্র।
ফরহাদ নামের আরেক কর্মী বলেন, সবাই যখন করোনা আতঙ্কে বাসায় অবস্থানরত। ঠিক তখনই এই ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ‘হাসির প্রত্যয় ফাউন্ডেশনে’র মাধ্যমে একটু খাবার তুলে দিতে পেরে এবং তাদেরকে একটু আনন্দে ভাসাতে পেরে আমারা অনেক বেশি আনন্দিত ও গর্বিত।
