বাগেরহাটের মোল্লাহাটে কিশোরদের ঘুড়ি উড়ানো নিয়ে ঝগড়ার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাদশা সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয়পক্ষের নারীসহ আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
বুধবার বিকেলে মোল্লাহাট উপজেলার গাংনি ইউনিয়নের গাংনি রহমতপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওইদিন সন্ধ্যায় সংঘর্ষে গুরুতর আহত বাদশা সরদারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত বাদশা সরদার উপজেলার গাংনি রহমতপাড়া গ্রামে ছালেক সরদারের ছেলে।
আহতরা হলেন- ইসমাইল খান (১৮), হাবিব মল্লিক (২০), আলমগীর সরদার (৫০), বাচ্চু মল্লিক (৩৫), আলমগীর শেখ (৪০), ওয়াহিদ সরদার (৫৫), সাইফুল ইসলাম (১৫), আব্দুল্লাহ শিকদার (২৬), রমজান (২৫), রিয়াজ মোল্লা (২০), সবেদ আলী (৩৫), আবেদ আলী (৩৮), রনি হাসান (৩৯), মিঠু শেখ (৪০) ও তার স্ত্রী, ছেলেও আহত হয়েছেন। এদের সবার বাড়ি গাংনি রহমতপাড়া গ্রামে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবির দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, ঈদের দিন জসিম নামে এক কিশোর মাঠে ঘুড়ি উড়ানোর সময় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় অন্য কয়েকজন কিশোরের সাথে জসিমের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জসিম চড়াও হয়ে তাদের কয়েকজনকে মারধর করে। এই ঘটনা ওই কিশোরদের অভিভাবকদের কানে গেলে তারা দুই পক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে বুধবার বিকেলে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বাদশাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
বাদশার আঘাত গুরুতর হওয়ার স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্য আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। সংঘর্ষে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
