প্রতিবন্ধী দত্তক শিশুকে দিয়ে ইউটিউবে আয়, পরে ত্যাগ!

আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ০২:১২ পিএম

চীন থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এক শিশুকে দত্তক আনতে ইউটিউবে ফান্ড জোগাড় করেন এক দম্পতি। এরপর তাদের স্পন্সরও জোটে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো তারা সেই শিশুটিকে সম্প্রতি অন্য পরিবারে রেখে এসেছেন!

বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের মাইকা স্টাফার এবং তার স্বামী জেমস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাদের চ্যানেল ২০১৭ সালে স্পন্সরদের সঙ্গে চুক্তি করে। ইউটিউব থেকেও ভালো আয় হতে থাকে।

দত্তক নেয়া শিশুটির নাম হাক্সলি। সে এখন স্থায়ীভাবে নতুন পরিবারে বসবাস করছে। এই খবর গত মঙ্গলবার জানাজানি হয়।

ওই দম্পতি বলছেন, হাক্সলির কিছু ‘অপ্রত্যাশিত আবেগী আচরণে’ তাদের জীবন জটিল হওয়ার কারণে তাকে তারা ত্যাগ করেছেন। দুজনের আরও চার সন্তান আছে।

এমন প্রতারণা দেখে সোফি রস নামের স্থানীয় এক সাংবাদিক টুইটারে লিখেছেন, ‘দত্তক নিতে ফান্ড সংগ্রহ করে আবার ত্যাগ করেছেন! খবরটি পড়ে হতাশ। ‘

ওই দম্পতি ২০১৪ সালে নিজেদের জীবনযাপনের কথা ইউটিউবে দেখাতে থাকেন। বছর খানেকের ভেতর তাদের ৭ লাখ ফলোয়ার হয়ে যায়।

২০১৬ সালে তারা চীন থেকে একটি শিশুকে দত্তক নেয়ার ঘোষণা দেন।

দত্তক সংস্থা তাদের জানায়, হাক্সলির মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত।

এটি জেনেও তারা শিশুটিকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসেন। প্রতিনিয়ত ভিডিও আপলোড করতে থাকেন। কিছুদিন পর তারা দর্শকদের হাক্সলির জন্য ৫ ডলার করে দান করতে বলেন।

এই দম্পতি হাক্সলিকে আনতে যখন চীনে যান, তখন যে ভিডিওটি করেন সেটি ৫.৫ মিলিয়ন ভিউ হয় ইউটিউবে!

এভাবে ২০১৯ সালে স্টাফার জানান হাক্সলির চিকিৎসা চলছে। কিন্তু বছরের শেষ নাগাদ দর্শকেরা বুঝতে পারেন হাক্সলিকে ইচ্ছা করেই ভিডিওতে আনা হচ্ছে না। গত মঙ্গলবার তারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেন।

স্টাফারের দাবি, ‘আমরা হাক্সলিকে রাখার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারলাম না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত