বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশের পরও অ্যান্টি-ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ট্রায়াল বন্ধ করেনি ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলিমেইল জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের ওষুধ পর্যবেক্ষক অধিদপ্তর থেকে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের করোনা রোগীদের ওপর এই ট্রায়াল অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়া হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ওষুধটির পক্ষে কথা বলতে থাকায় অনেক দেশ ট্রায়াল শুরু করে। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস এই ওষুধের সব ধরনের ট্রায়াল বন্ধের নির্দেশ দেন।
গেব্রিয়াসুস জানান, পূর্ব-সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ওষুধটির ব্যবহার তারা বন্ধ রাখতে চাইছেন।
তিনি বলেন ‘এক্সিকিউটিভ গ্রুপ থেকে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। সেফটি মনিটরিং বোর্ড থেকে ডেটা পর্যবেক্ষণের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) জানিয়েছে, রিকভারি ট্রায়ালে তারা নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি পাননি।
যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে দশ হাজারের বেশি রোগীকে এই ট্রায়ালে যুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ওষুধটির ব্যাপারে আগেও একাধিকবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু ট্রাম্প বারবার এর পক্ষে সাফাই গাইতে থাকেন।
এই ওষুধ ব্যবহারে নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি অনেক দেশের গবেষণায় কয়েক জনের মারা যাওয়ার খবরও এসেছে।
গেব্রিয়াসুস বলেন, কভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ কতটা নিরাপদ, তার পর্যালোচনা চলছে, তার আগ পর্যন্ত বিশ্ব সংস্থার নির্বাহীরা এই ওষুধটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে কভিড-১৯ চিকিৎসায় বিশ্বে অনুমোদিত অন্য যেসব ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে, তা চলবে বলে জানান তিনি।
