লকডাউন আরোপ এবং বেশি সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা-এসবের কিছুই না করে করোনা প্রতিরোধে সফল বলা হচ্ছে জাপানকে। এর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসায় তুলে ফেলা হয়েছে জরুরি অবস্থাও।
টাইম ডটকম জানায়, লকডাউন আরোপ করে মানুষকে ঘরবন্দী করে রাখা ও যত বেশি সংখ্যক সম্ভব নমুনা পরীক্ষা করাই বিশ্বজুড়ে মহামারী ঠেকাতে প্রধান কৌশল হয়ে উঠে। কিন্তু জাপান এগুলোর কিছুই করেনি।
দেশটি এখন পর্যন্ত শূন্য দশমিক দুই শতাংশ পরীক্ষা চালিয়েছে। এদিক দিয়ে বিশ্ব থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে জাপান। প্রযুক্তি নির্ভর দেশ হয়েও ইউরোপ-আমেরিকার মতো কনট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপও চাপিয়ে দেয়নি মানুষের ওপর।
জরুরি অবস্থা জারি করলেও মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বড় কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি দেশটি। রেস্তোরাঁ, সেলুন এসব খোলাই ছিল।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুসারে, জাপানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ৬২৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮৮১ জন। তার মানে এখন পর্যন্ত এক হাজারের নিচে মৃতের সংখ্যা ধরে রাখতে পেরেছে দেশটি। অথচ বিশ্বের অনেক দেশের মতো তাদের কোনো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানও নেই।
সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যমে করোনা নিয়ন্ত্রণে জাপানের সফলতার ৪৩টি সম্ভাব্য দিক তুলে ধরা হয়। যেগুলোর মধ্যে আছে, মাস্ক পরে চলাফেরা, মানুষের মধ্যে স্থুলতা না থাকা, দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার বিষয়গুলো। এমনকি জাপানি ভাষায় কথা বলতে গিয়ে মুখ থেকে থুথু কম ছিটে বলে ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা কম থাকে বলে এমনটা প্রকাশ পেয়েছে। তবে জাপানের সফলতার পেছনে মোটা দাগে তিনটি কারণ দেখছেন গবেষকেরা।
কন্টাক্ট ট্রেসিং
করোনা সংক্রমণ রোধে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিয়েছে অনেক দেশ। জাপানে সংক্রমণ শনাক্তে প্রশিক্ষিত অর্ধ লাখ কর্মী রয়েছে, যা অন্য কোনো দেশের নেই।
অন্য সময় ইনফ্লুয়েঞ্জা ও যক্ষ্মার সংক্রমণ শনাক্ত করাই ছিল এই অর্ধলাখ প্রশিক্ষিত নার্সের কাজ। এপ্রিলে কভিড-১৯ ছড়ানোর পর থেকে তাদের সবাইকে কাজে লাগাচ্ছে জাপান।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র কন্টাক্ট ট্রেসার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে অনেক পরে। সেদিক দিয়ে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হতেই জাপান তার স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে লাগিয়েছে।
সিঙ্গাপুরের মতো অ্যাপ চালু না করলেও প্রশিক্ষিত জনবল দিয়েই সফলভাবে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করতে পেরেছে জাপান।
থ্রি সি কৌশল
সামাজিক দূরত্বের মাধ্যমে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রাখাকেই করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু জাপান হাঁটে ভিন্ন কৌশলে। তারা এ ক্ষেত্রে তিনটি মন্ত্র (থ্রি সি) প্রয়োগ করে- ‘ক্লোজড স্পেস’, ‘ক্রাউডেড স্পেস’ এবং ‘ক্লোজড কনট্যাক্ট’ থেকে দূরে থাকা।
মানুষকে শুরু থেকেই বদ্ধ ঘরে অবরুদ্ধ করতে চায়নি জাপান সরকার। নিউইয়র্কে বদ্ধ ঘরে অনেক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। বদ্ধঘরে মানুষের জীবনীশক্তি দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায় বলে বিশেজ্ঞরা সতর্ক করলেও তা তেমন গুরুত্ব দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অনেকেই।
করোনার ভিন্ন স্ট্রেইন
মে মাসের শেষের দিকে এক মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপজুড়ে ভাইরাসের একটি স্ট্রেইন ছড়িয়েছে, যা এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের স্ট্রেইন থেকে কিছুটা আলাদা। তবে এই গবেষণা এখনও যাচাই-বাছাই হয়নি। এরপরেও জাপানে করোনা সংক্রমণ বড় আকার ধারণ করতে না পারার পেছনে এমন ভিন্ন স্ট্রেইনের কথাও উঠে এসেছে।
