দ্যুতি ছড়িয়েও স্বপ্ন পূরণে অন্ধকার দেখছে আফরোজ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ০৭:০০ এএম

মাহবুবা আফরোজ সাত বছর বয়সেই বাবাকে হারিয়েছেন। বাবা মারা যাওয়ার তিন বছর পার হতে না হতেই মা-ও তাকে ছেড়ে নতুন সংসার পাতেন। এরপর বৃদ্ধ ও দরিদ্র নানা আবদুল জলিলের বাড়ি এসে ওঠেন আফরোজ। দিনমজুরি করে পাওয়া সামান্য অর্থেই চলে নানা আবদুল জলিলের অনটনের সংসার। কিন্তু দিনমজুর নানার বাড়িতে শত কষ্টের মাঝেও লেখাপড়া চালিয়ে যান আফরোজ।

প্রতিদিন তিন কিলোমিটার পথ পায়ে মাড়িয়ে নিয়মিত যাতায়াত ছিল স্কুলে। নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে কিছুটা ব্যয় নির্বাহ করেছেন। হাজারো কষ্ট ছিল মাহবুবা আফরোজের। সেই কষ্টকে দূরে ঠেলে এবার এসএসসিতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা আরেফা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন আফরোজ। মাহবুবা আফরোজের নানাবাড়ি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের আফতাব মোড় এলাকায়।

মাহবুবা আফরোজের নানি আনিছা বেগম বলেন, নাতনি প্রায় সময় না খেয়েই স্কুলে যেত। কিন্তু স্কুলে ভালো ফলাফল করত। তিনি আরও বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের তো আর সামর্থ্য নেই নাতনিকে কলেজে পড়ানোর। এখন যদি কোনো দানশীল ব্যক্তি তার লেখাপড়ার ব্যয় বহন করে তাহলেই হয়তো সে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।

মাহবুবা আফরোজ বলেন, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার আলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। কিন্তু দারিদ্র্য আমার সে স্বপ্নকে কতটুকু এগোতে দেবে সেটি আল্লাহ ভালো জানেন।

বাউরা আরেফা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, মাহবুবা আফরোজ খুবই মেধাবী। দারিদ্র্যের কারণে আমরা তার লেখাপড়ার উপকরণসহ সব ধরনের সহায়তা দিয়েছি। এখন কোনো সহৃদয়বান তার উচ্চ শিক্ষায় সহযোগিতা করলে মেয়েটি নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত