নির্মাণ শেষ না হতেই কালভার্টে ফাটল, হেলে পড়েছে উইং ওয়াল

আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ১০:৫৭ এএম

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় একটি কালভার্ট নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই ফাটল দেখা দিয়েছে।

বলাইশিমূল ইউনিয়নের আমলিতলা বাজার-সয়রাপাড়া সড়কের আমলিতলা বাজার সংলগ্ন এই কালভার্টের এপ্রোচ সড়কের চারদিকের মাটি ধরে রাখার উইং ওয়াল্ও হেলে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও পরিমাণে কম দেওয়ায় এটি হয়েছে। অপরদিকে কেন্দুয়ার উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হাসান বলেন, ভিকু দিয়ে মাটি ভরাটের সময় চাপে এমনটি হয়েছে।

সরকারি বিধান অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম, কার্যাদেশ শুরু ও শেষের তারিখ, প্রাক্কলিত মূল্য সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝুলানোর নিয়ম থাকলেও তা স্থাপিত হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারের নাম অসীম সিংহ বলতে পারলেও কালভার্টের দরপত্র মূল্য কত ধরা হয়েছে তার সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।

অনুমান করে বলেন, সাত থেকে আট লক্ষ টাকার মতো হবে। কালভার্টের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা এবং কার্যাদেশ কতদিন আগে দেয়া হয়েছে এর সঠিক তথ্য মেলেনি। তবে বলেছেন, এক মাসের কম-বেশির মতো হবে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার।

উপজেলার আমলীতলা বাজারের পাশে নির্মাণাধীন কালভার্টের এপ্রোচ সড়কে মাটি ভরাটের সময় ভেঙে পড়তে শুরু করে এর বিভিন্ন অংশ।

ধসে পড়া অংশে হাত দিলেই খসে পড়ে ব্যবহারকৃত সিমেন্ট-বালু। নির্মাণে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিম্নমানের কাজ করায় কালভার্টটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

কালভার্ট ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হতে না হতেই এবং নির্মাণের কাজ শেষে হস্তান্তরের আগেই যদি এ হাল হয় তাহলে কি পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে এমন প্রশ্ন রাখেন স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী।

image

স্থানীয় আজমল হোসেন বলেন, এটি নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ভেঙে পড়া শুরু করছে। তার দাবি পুনরায় কালভার্টটি নির্মাণ করে দিতে হবে তা না হলে এলাকাবাসী মানবে না।

অসিম সিংহ ঠিকাদারির প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনকারী তার ছোট ভাই বিপ্লব সিংহের সাথে মুঠোফোনের কথা হলে তিনি নির্মাণ কাজটি সঠিক তথ্য জানেন না।

তবে কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সঞ্জু মিয়ার সেল নম্বর দিয়ে বলেন, তিনি কাজটি করা্চ্ছেন এবং তার কাছে তথ্য পাওয়া যাবে।

পরে গন্ডা ইউপি’র চেয়ারম্যান মো. সঞ্জু মিয়ার সাথে মোবাইলে কয়েক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য নেয়া যায়নি।

স্থানীয় বলাইশিমুল ইউনিয়নের চেয়াম্যান মো. আলী আকবর তালুকদার মল্লিক স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার বলেন, ফাটলসহ এপ্রোচ সড়কের মাটি ধরে রাখার জন্য কালভার্টটির চারদিকের দেয়াল (উয়ইং ওয়াল) হেলে পড়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

এলজিইডি’র কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, যোগদানের ৫-৬ মাস আগেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কার্যাদেশের সঠিক মূল্য, কালভার্টটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলতে পারছি না।

তবে কার্যাদেশ মূল্য সাত থেকে আট লক্ষ টাকার মধ্যে হবে। ঠিকাদার অসীম সিংহের হয়ে চেয়ারম্যান সঞ্জু মিয়া ও তার ভাই দেখাশুনা করছে।

ফাটলের বিষয়ে বলেন, ভিকু দিয়ে মাটি ভরাটের সময় এমনটি হয়েছে।

বিষয়টি তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং এটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে কোনো বিল প্রদান করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত