বাজেটে ‘ভঙ্গুর’ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ টিআইবির

আপডেট : ০৯ জুন ২০২০, ০৬:৫৫ পিএম

স্বাস্থ্যখাতকে 'ভঙ্গুর' হিসেবে অভিহিত করে আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ বাড়াোর তাগিদ দিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রানসপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।  

মঙ্গলবার টিআইবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কোভিড-১৯ উদ্ভত পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের দুর্বল অবস্থা অত্যন্ত করুণভাবে ফুটে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালগুলো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছে। সেবা না পেয়ে হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে অসহায় মৃত্যুর খবরও উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। বছরের পর বছর স্বাস্থ্য খাতে অপর্যাপ্ত অর্থায়ন, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সমন্বিত কৌশলের অভাব আর এ খাতে ক্রমবর্ধমান লাগামহীন দুর্নীতি এহেন বিপর্যয় নিয়ে এসেছে। আসন্ন বাজেটে সরকার এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা পথনকশা তুলে ধরবে বলে আশা করছি, যেখানে সার্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালুর সময়াবদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় দুর্নীতির  মূলোৎপাটনের কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি সচল করার নামে আসন্ন জাতীয় বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুবিধা আরো বাড়াতে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সুশাসন ও ন্যায্যতার পরিপন্থী হলেও আবাসন খাতে ফ্ল্যাটের পাশাপাশি জমি কেনা, উন্নয়ন এবং শেয়ার বাজারের বিনিয়োগেও এই অনৈতিকতার বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নামে সরকারের এমন পরিকল্পনায় ক্ষুদ্ধ টিআইবি। 

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,আসন্ন বাজেটে ফের বড় পরিসরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগই কেবল দেওয়া হচ্ছে না, বরং অর্থের উৎস নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রশ্ন করার বিধানটিও উঠিয়ে দিতে যাচ্ছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘শূন্য সহনশীলতার’ ঘোষণা আর দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদকে বৈধতা দেওয়া শুধু পরস্পর বিরোধী নয়,বরং সরাসরি দুর্নীতি সহায়ক, অনৈতিক, অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক। 

তিনি বলেন, বছরের পর বছর এই সুবিধা দিয়ে দেশের অর্থনীতির কোনো উপকার হয়নি, উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়নি,কোনো বিনিয়োগ তো নয়-ই। অথচ অনৈতিকতা প্রশ্রয় পেয়েছে আর সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থি এই ব্যবস্থা সৎপথে উপার্জনকারী নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক। এমন বাস্তবতায় সরকারকে এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত