চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নের অভ্যারখীল পাহাড়ে গোপনে পুঁতে ফেলা হাতির লাশটি উত্তোলন করে বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তকালে হাতিটির একটি দাঁত নেই এবং একটির অবশিষ্ট অংশসহ কিছু প্রয়োজনীয় হাড়গোড় নেই বলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. সমরঞ্জন বড়ুয়া জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৈলছড়ি ইউনিয়নের অভ্যারখীল পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য বসতভিটা। এছাড়া পাহাড়ের জায়গা খন্ড খন্ড করে গড়ে তোলা হয়েছে নানা প্রজাতির ফসলি ক্ষেত। বিগত ১০-১২ দিন আগে স্থানীয় কিছু লোক বাগানে বিদ্যুৎ এবং বিষাক্ত কাঁঠাল খাওয়ানোর পর হাতির মৃত্যু হলে বনবিভাগকে না জানিয়ে অভ্যারখীল পাহাড়ি এলাকার জনৈক আবদুল আলিমের জায়গায় হাতিটিকে পুঁতে ফেলা হয়।
গতকাল ওই পুঁতে ফেলা স্থান থেকে প্রচন্ড গন্ধ বের হলে স্থানীয় জনগণ চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে অবহিত করলে তিনি বনবিভাগ ও প্রশাসনকে এ ঘটনা অবহিত করেন।
খবর পেয়ে বাঁশখালীতে কর্মরত সাংবাদিকরা ওই হাতি পুতে ফেলার ঘটনাস্থলে গিয়ে সরজমিনে প্রত্যক্ষ করেন এবং বিষয়টি নিশ্চিত হন।
বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, এই পাহাড়ি এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে যারা হাতিকে নানাভাবে হত্যা করে হাতির মূল্যবান অংশ ও দাঁত বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সাধনপুর রেঞ্জের সাধনপুর বনবিট কর্মকর্তা জলিলুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় জনগণের খবরের ভিত্তিতে এসে হাতিকে মেরে পুঁতে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদি ঘটনাটি ১০-১২ দিন আগের। যারা এই হাতি হত্যা এবং আমাদেরকে না জানিয়ে অগোচরে মাটি চাপা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
তবে মাটি থেকে তোলার পর হাতিটির বিভিন্ন অংশ না থাকার ব্যাপারে কোন ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেনি তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. সমরঞ্জন বড়ুয়া বলেন, এ ধরনের প্রতিনিয়ত হাতির মৃত্যুর ঘটনা বাঁশখালীর আগে অন্য কোথাও দেখেনি। কি কারণে হাতিগুলো বার বার মারা যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হাতির পোস্টমার্ডাম করতে গিয়ে দেখা যায় একেকটা হাতি একেক কারণে মৃত্যুবরণ করেছে। তিনি বলেন, হাতিটির একটি দাঁত চুরি করেছে অপর একটি দাঁতের অংশ বিশেষ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাতির মরদেহের পাশে লোহাসহ অন্যান্য কিছু পাওয়া গেছে এবং হাতিটির বয়স ১২-১৫ বছর হতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।
জলদী অভয়ারন্য রেঞ্জ ও বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, পাহাড়ে অধিক জনবসতি গড়ে উঠায় খাদ্য স্বপ্লতার কারণে হাতি লোকালয়ে ছুটে আসছে। আর এ সুযোগে কিছু খারাপ লোক খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে হাতিকে হত্যা করছে । আবার অনেক সময় বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে হাতিকে মারা হচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে ভিন্ন কৌশলে হাতিকে ফাঁদ পেতে হত্যা করে তাহলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে।
