গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন কোকিলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার থেকে আধা ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যালয়ের প্রধান সড়কের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে দেশ রূপান্তরে ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি চিঠি গোপনসহ আর্থিক অনিয়েমের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিষয়টি জানতে পারে কলকমাকান্দাবাসী।
সাবেক শিক্ষার্থী ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি বিশ্বাসের নেতৃত্বে বীরমুক্তিযোদ্ধা সুলতান গিয়াস উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম, সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ, আবদুল ওহাবসহ শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন কোকিল মাস্টারের বিচারের দাবি করেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পর ২৯ শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা আত্মীকরণের লক্ষ্যে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফেরদৌসী আখতার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিদ্যালয়ের ঠিকানায় পাঠানো হয়। সেই চিঠি ছয় মাস ধরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপন রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।
জেলার পূর্বধলা ও বারহাট্টা উপজেলাসহ একই সময়ে সরকারিকরণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা ইতিমধ্যে সরকারি ভাতা পেয়েছেন। কিন্তু এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীর দাবি, চিঠিটি প্রধান শিক্ষক উদ্দেশ্যমূলকভাবে গোপন করেন। ২৯ শিক্ষক ও কর্মচারীর তালিকা যথাসময়ে প্রেরণ না করায় তাদের বেতন-ভাতাদি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
এছাড়া প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি পরিচয়পত্র বাবদ ১২০ টাকা করে আদায় করেছেন। তবে পরিচয়পত্রের খরচ পরিশোধ করেছেন বিদ্যালয়ের তহবিলের টাকা থেকে। এমন অভিযোগ করেন ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাস।
