রক্ষাণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ে স্টেশনের গুদামঘর

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ০৯:৩৪ এএম

তদারকি ও কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলার কারণে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলস্টেশনের বৃটিশ শাসনামলে নির্মিত লাল টিনশেডের গুদামঘরটি। কাঠামোর লোহার পাতগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় ঘরটি ভেঙে বিনষ্ট হয়ে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রেলওয়ে বিভাগের লাখ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র ।

ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের ২০০ গজ উত্তরে আউটার সিগন্যালের পাশে বৃটিশ শাসনামলে রেলওয়ে পরিবহনে বহনকৃত মালামাল সংরক্ষণের জন্য টিনশেডের একটি গুদাম তৈরি করা হয়।

গুদাম তৈরির পর পুরোটাই লাল রং দেওয়া হলে স্থানীয়ভাবে এটিকে লাল গুদাম বলা হয়। তৎকালীন সময়ে গুদাম ঘরটিতে ট্রেনে পরিবহনের মালামাল সংরক্ষণ করা হলেও স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সাল থেকে এ গুদাম ঘরটি অব্যবহৃত অবস্থায় থাকে।

ফলে অব্যবহৃত গুদামঘরটি রাজস্ব আয়ের স্বার্থে বিভিন্ন জনের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছিল।

ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার উত্তম কুমার জানান, প্রায় ১৫ বছর পূর্বে স্থানীয় হীরা মিয়া ঘরটি ভাড়া নেয়ার পর ঘরটি ব্যবহার করতে না পারার কারণে তা প্রত্যাহার করে নেন।

এমতাবস্থায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে ঘরটির বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরই মধ্যে ১৯৯৭ সালে কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে কাত হয়ে গেছে গুদামঘরটি। এই সুযোগে কতিপয় সংঘবদ্ধ চোর চক্র ঘরটির মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। ফলে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলস্থ রেলওয়ের গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, এটা দেখাশুনার মূল দায়িত্বে রেলওয়ে আই ডব্লিউ বিভাগের। তবে স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টাররাই তদারকি করে থাকেন।

কুলাউড়াস্থ রেলওয়ের আই ডব্লিউ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ বলেন, ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের গুদাম ঘরটি ভেঙে পড়ে আছে তিনি তা জানেন না। এখন জানতে পারায় তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত