শ্বেত আধিপত্যবাদে দুর্বল যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি

আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ০৭:০০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টেকটনিক প্লেট নাড়িয়ে দিয়েছে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন। বর্ণবাদ ও পুলিশি কাঠামোবিরোধী আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিকে এতটাই নাড়িয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতে আঘাত লেগেছে, বিশেষত বর্ণবাদের মতো ইস্যুতে। বৈশ্বিকভাবে যখন এই আন্দোলনকে বিভিন্ন দেশ থেকে সমর্থন জানানো হচ্ছে, তখন সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা নাকাল হয়ে পড়ে। গত দেড় সপ্তাহে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের দিকে তাকালেই যুক্তরাষ্ট্রের কোণঠাসা অবস্থা বিবেচনা করা যায়। আর এসবের মূলে আছে শ্বেত আধিপত্যবাদ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খোলাখুলিভাবেই শ্বেত আধিপত্যদের একজন পৃষ্ঠপোষক। তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ভিশনের একটা বড় অংশজুড়েই আছে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে ও প্রতিষ্ঠানে শ্বেতাঙ্গদের ক্ষমতায়ন করা। তার মন্ত্রিসভার দিকে তাকালেই সেখানে প্রায় সবাই শ্বেতাঙ্গ ও পুরুষ দেখতে পাওয়া যাবে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর লাতিন আমেরিকার সীমান্তে সমস্যা, মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্ত সংকট, অবৈধ অভিবাসী সমস্যাসহ এমন সব ইস্যু মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে যা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সমাজের অভ্যন্তরে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন স্টিভ ব্যানন, যিনি দক্ষিণপন্থি রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতী।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এমনটা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসন যন্ত্রে একের পর এক রদবদল ও শ্বেত আধিপত্যবাদকে রক্ষা করতে গিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রমশ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন। এই ঝুঁকির ফলে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের যে এক নম্বর চেহারা তা এখন আর নেই। কারণ বিশ্ব নাগরিকদের সামনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা হলো সেই দেশের মানুষ যে দেশে এখনো বর্ণবাদ প্রকা-রূপে রয়েছে। ফলে নৈতিকভাবে পরাজয় ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের।

গৃহযুদ্ধ ও বিশ্বযুদ্ধে আত্মত্যাগের মহিমাকে গৌরবান্বিত করেছিল বর্ণবাদবিরোধী চেতনা। গোটা বিশ্বের মানুষ জানে যুক্তরাষ্ট্রে কালো মানুষের অধিকারের আদায়ের জন্য, তাদের স্বীকৃতির জন্য কতটা লড়াই করতে হয়েছে। সেই লড়াইয়ের ফলে প্রাপ্ত অর্জনই মূলত বহুজাতিক যুক্তরাষ্ট্রকে গড়তে সাহায্য করে। আর এখন সেই বহুজাতিক অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ সবখানে। তাই তো বার্লিন, আমস্টারডাম, লন্ডন, ক্যানবেরা, জোহানেসবার্গ থেকে শুরু করে সর্বত্র আজ ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনকে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্র্তৃত্ববাদী ভাবমূর্তিকে পরাস্ত করার নিয়ামক হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও আজ পরিবর্তনের পক্ষে, তাই তো কালো মানুষের অধিকারের আন্দোলনে বহু শ্বেতাঙ্গকেও দেখা যাচ্ছে, যারা নিজেরাও ওই আধিপত্যবাদে ভীতশ্রদ্ধ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত