প্রবন্ধ ও ভাবসম্প্রসারণে ভালো করতে

আপডেট : ২৪ জুন ২০২০, ০৬:৪৬ এএম

প্রবন্ধ

প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। প্রবন্ধকে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রবন্ধের ভাষা স্থির হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তোমাকে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের ভাষা পরিবর্তন হয়। প্রবন্ধকে কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায় যেমন, বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধ হচ্ছে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূলবিষয় সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয় তা সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয় তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ।

লেখার নিয়ম

প্রবন্ধে প্রধানত তিনটি অংশ থাকেÑ ভূমিকা, মূল অংশ ও উপসংহার। ভূমিকা হলো যে বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে ধারণা দেওয়া হয়। এ অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত। প্রবন্ধের মধ্য ভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদে যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় সেদিকে লক্ষ রেখো। এ অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, অর্থাৎ মূল রচনায় তা যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে তোমাকে। আর অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাবপ্রকাশ হলো উপসংহার। ব্যক্তি গত মত, সমস্যার সমাধানের প্রত্যাশা এ অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে। প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে। প্রবন্ধ রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল। কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না। উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এ সবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে তোমাকে। প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় সেটাও মনে রেখো।

ভাবসম্প্রসারণ

প্রতিটি ভাষায়ই এমন কিছু বাক্য রয়েছে যার মধ্যে নিহিত থাকে গভীর ভাব। কবি, সাহিত্যিক, মনীষীদের রচনা কিংবা হাজার বছর ধরে প্রচলিত প্রবাদ প্রবচনে নিহিত থাকে জীবনসত্য। এ ধরনের গভীর ভাব বিশ্লেষণ করে তা সহজভাবে বুঝিয়ে দেওয়াকে বলে ভাবসম্প্রসারণ। ভাবসম্প্রসারণ লেখার সময় তোমাকে যুক্তি, দৃষ্টান্ত ও প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি দিয়ে মূলভাব পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

লেখার নিয়ম

উদ্ধৃতি অংশটি মনোযোগ দিয়ে বারবার পড়তে হবে তোমাকে। তাহলে এর মূলভাব বুঝতে পারবে। লেখার উদ্ধৃত অংশটির মধ্যে এমন কিছু শব্দ থাকে যার অর্থ বুঝতে পারলে তোমার মূলভাব বোঝা সহজ হবে। তাই প্রতিটি শব্দের অর্থ খুঁজে বুঝতে হবে। মূলভাব সরল ও সহজ ভাষায় বর্ণনা করবে। মনে রেখো একই বিষয় বারবার লেখা এবং অবান্তর কথা লেখা যাবে না। উদ্ধৃত অংশে কোনো উপমা বা রূপক থাকলে তার অর্থ বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে লিখবে। মূলভাব স্পষ্ট করার জন্য উদাহরণ, উদ্ধৃতি ইত্যাদি দেওয়া যাবে।  উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে লেখকের নাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভাব সম্প্রসারণের আয়তন প্রবন্ধের মতো বড় বা সারাংশের মতো ছোট হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত