বলিউডের সুর-সম্রাজ্ঞী লতা মুঙ্গেশকার রাহুল দেব বর্মণের জন্মবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
শনিবার রাহুলের ৮১তম জন্মদিনে লতা লিখেছেন, ‘নমস্কার, আজ এমন একজন মানুষের জন্মদিন, যে তার মিষ্টি স্বভাব এবং গান দিয়ে হৃদয় জিতেছিল। আর ডি বর্মণ। বাবাকে ও খুব ভালোবাসতো। আমাদের খুব ভালো বন্ধন ছিল। সুখ-দুঃখের সব কথা ও আমাকে বলতো।’
বাংলা-হিন্দিসহ একাধিক ভাষায় কালজয়ী সব গান সৃষ্টি করেছেন আর ডি বর্মণ। লতার সঙ্গেও তার বিখ্যাত কিছু গান আছে।
কিশোর কুমার আর লতার গাওয়া ‘তেরে বিনা জিন্দেগি সে’ তারই সুর করা। গানটি লিখেছিলেন আরেক কিংবদন্তি গীতিকার গুলজার।
সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনায় রাহুল দেব বর্মণের মতো দক্ষ ব্যক্তি আজও বলিউডে খুব কম আছে। গানের পাশাপাশি ছবির পরিস্থিতি বিবেচনায় নানা ধরনের কাজ করতেন তিনি। শোলে ছবিতে হেমা মালিনীকে গব্বরের গুন্ডারা যখন তাড়া করছে, তখন ওই টেনশনের সিচুয়েশনে তবলার ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল তারই।
জয় সরকারের মতো এই যুগের সঙ্গীত পরিচালকেরা প্রায়ই বলে থাকেন বলিউড এখনো অনেকাংশে আর ডি বর্মণকে নকল করে টিকে আছে। জয় সরকারকে একবার জি বাংলার গানের অনুষ্ঠানে এভাবে বলতে শোনা যায়, ‘সত্তরের দশক ছিল আর ডি-র দশক। ওই সময় আমার জন্ম হয়েছিল ভাগ্যিস! তাই তার গান শুনে বড় হতে পেরেছিলাম! আজ গানবাজনার জগতে আমরা যে যা করছি তার সবটাই ওনার জন্য। এটা স্বীকার করতে কোনও দ্বিধা নেই আমার।’
উপমহাদেশের প্রখ্যাত গায়ক ও সংগীত পরিচালক শচীন দেব বর্মণের একমাত্র ছেলে রাহুল দেব বর্মণ। ১৯৩৯ সালের ২৭ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ছোটে নবাব’ ছবির মাধ্যমে সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
পরবর্তী সময়ে ‘আজা আজা’, ‘এ চতুর নার’, ‘চুরা লিয়া’, ‘দম মারো দম, ‘বাঁচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘ও হাসিনা জুলফোওয়ালি’, ‘ইয়ে দোস্তি’, ‘বাহু মে চলি আ’, ‘ভিগি ভিগি রাতো মে’, ‘নেহি নেহি’, ‘তুঝছে নারাজ’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দেন গুণী এ সংগীত ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৪ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র ৫৪ বছর বয়সে মারা যান রাহুল দেব বর্মণ।
রাহুল দেব বর্মণের মৃত্যুর তিন মাস পর মুক্তি পায় অনীল কাপুর ও মনীষা কৈরালা অভিনীত বলিউডের ছবি ‘১৯৪২: এ লাভ স্টোরি’। এটিই ছিল আর ডি বর্মণের সংগীত পরিচালনায় শেষ ছবি। ছবির ‘কুচ না কাহো’ গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন লতা।
