যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে মেশিন সরবরাহে ঠিকাদারের দুর্নীতি ধরেছেন সংসদ সদস্য। মঙ্গলবার ঠিকাদারের সরবরাহ করা পোর্টেবল এক্স-রে মেশিনটি বৃহস্পতিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে যান সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন। তিনি দেখেই বুঝতে পারেন মেশিনটি নতুন নয়। পুরানো মেশিনে রঙ করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য বলেন, আমি একজন ডাক্তার, এসব মেশিন আমার সর্বাধিক পরিচিত। মেশিনটি দেখেই আমি বুঝতে পেরেছি এটি মোটেও নতুন নয়। পুরনো মেশিনকে রঙ করে সরবরাহ করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কীভাবে সেটি গ্রহণ করল?
উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড.মোস্তানিছুর রহমান জানান, পোর্টেবল এক্স-রে মেশিনটি কিনতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের এডিপির বরাদ্দ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক্স-রে মেশিনটি গ্রহণ করলেন তা আমার মাথায় আসছে না। শুধু তাই না, উপজেলা স্বস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কীভাবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যয়ণপত্র দিলেন সেটিও আমার বোধগম্য নয়’।
তিনি জানান, এক্স-রে মেশিন সরবরাহ বাবদ নেয়া টাকা ঠিকাদারকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার লাকি বলেন, বিষয়টিতে আমি খুবই আপসেট। আমার স্টোরকিপার আর এক্স-রে অপারেটর দু’জনেই বললো এক্স-রে মেশিনটি ঠিক আছে আর আমি প্রত্যয়ণ দিলাম।
হাসপাতাল স্টোরকিপার ইমরান হোসেন বলেন, এক্স-রে মেশিনটি আমি বুঝে নিইনি।
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টাপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী কবির হোসেন বলেন, নতুন এই মেশিনের দাম ১৫ লাখ টাকা। এডিপির বরাদ্দকৃত সাড়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় এই মেশিন কেনা সম্ভব নয়।
তাহলে কেন নতুন বলে পুরনো মেশিন দিলেন, জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি কবির।
