করোনা পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ কমাতে ‘অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে’

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ০২:১৩ এএম

মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিদিন ‘অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

শনিবারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত-মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামাররি কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক অনিরাপত্তা আমাদের সকলের মনের ওপরেই অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে অনেকেরই নিয়মিত ঘুম ব্যাহত হচ্ছে।

মহামারির সময়টিতে পর্যাপ্ত ঘুম খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এটা আমাদের মন ও শরীর দুটোই ভাল রাখবে।

দীর্ঘদিন সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার বিষয়টি মানুষের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুর সম্মিলিত মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হতে পারে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে পারে এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। এই সময় বাড়ির শিশু এবং বয়ষ্কদের বিশেষভাবে যত্ন নিন।

নারীদের প্রতি যত্নবান হওয়া পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বেশিরভাগ সংসারে নারীই প্রাথমিক এবং একমাত্র সেবাদানকারী। যে কোন সংকটে তার কাজের চাপ এবং মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা পরিহার করুন।

করোনা মহামারিকালে সকলকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. নাসিমা বলেন, নিজে কিভাবে ভাল থাকবেন সে পথ খুঁজে নিতে পারেন নানারকম সৃষ্টিশীল ও ভালো কাজের মধ্যে।

কভিড-১৯ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ বুলেটিন অনুযায়ী শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে আরও ২৯ জনের। তাদের মধ্যে ২১ জনই পুরুষ, আটজন নারী।

দেশে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯৭ জনে। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১ হাজার ৫৮৭ জন, যা শতাংশের হিসেবে মোট মৃত্যুর ৭৯. ৪৭ ভাগ। বিপরীতে মৃত্যুবরণ করা নারীদের সংখ্যা ৪১০ জন, মোট মৃত্যুর ২০.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ করোনায় নারীর বিপরীতে পুরুষের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় চারগুণের কাছাকাছি।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ষাটোর্ধ্বদের বেশি মৃত্যু হচ্ছে। মোট মৃত্যুর ৪৩.৫২ শতাংশের বয়সই ষাটের বেশি।

এরপরই রয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব। এখন পর্যন্ত ৫১-৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ২৯.০৪ শতাংশ।

অন্যদের মধ্যে ৪১-৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৪-২৭ শতাংশ, ৩১-৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৭.৪১ শতাংশ, ২১-৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৩.৫১ শতাংশ, ১১-২০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১.২০ শতাংশ এবং ০-১০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ০.৬০ শতাংশ।

বুলেটিনে বলা হয়, সবশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৭২৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩ হাজার ২৮৮ জনের শরীরে কভিড-১৯ এর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৯ জন।

এই সময়ে করোনা থেকে মুক্তি লাখ করেছেন আরও ২ হাজার ৬৭৩ জন। তাতে মোট সুস্থ মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৭২১ জন।

উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এর দশ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত