জেলে পরিচয়, জেলে বসেই ডাকাতির পরিকল্পনা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ০৮:৫৭ পিএম

বিভিন্ন সময় চুরি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাবার পর তাদের পরিচয়। সেখানে বসেই বড় কোন শোরুমে ডাকাতির পরিকল্পনা করে তারা। জেল থেকে বেরিয়ে তারা যোগাযোগ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৩ জুন মধ্যরাতে রাজধানীর পান্থপথের ওয়ালটন প্লাজা (এসটি) শোরুমের মালামাল ডাকাতি করে।

ওই ঘটনায় ওয়ালটন শোরুম টিম ম্যানেজার মো. রানা মিয়া পরদিন ২৪ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তদন্তের ভিত্তিতে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতির কাজে অংশগ্রহণকারী ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রথমে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বছিলা থেকে মো. রবিউল ইসলামকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদের মধ্যে রবিউল ইসলাম ১৬৪ ধারায় আদালতে ডাকাতির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে যে, ওই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৮/১০ জন। তাদের ডাকাতির পরিকল্পনা জেলে বসেই।

রবিবার দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ।

তিনি বলেন, ডাকাতির মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪টি ওয়ালটন ফ্রিজ, ৫টি এলইডি টেলিভিশন, একটি মোবাইল ফোন এবং ড্রাইভারের সাড়ে চার হাজার টাকা এবং হেলপারের নিকট থাকা ৮০০ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা। যার মূল্য ৬ লক্ষাধিক টাকা।

এর মধ্যে পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ১৮ টি ওয়ালটন ফ্রিজ এবং তিনটি এলইডি টেলিভিশন উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ওইদিন রাজধানীর পান্থপথে ওয়ালটন প্লাজার (এসটি) মালামাল কিশোরগঞ্জ জেলার ডিলারের নিকট (রহমত ইলেকট্রনিকস) পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ওয়ালটন কোম্পানির নিজস্ব পরিবহনে শোরুমের কর্মচারী জিহাদ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, মো. তারেক হোসেন মারফত মালামাল ওঠানো হয়। পরে পণ্যের চালান কপি ড্রাইভার আনোয়ার হোসেন এবং হেলপার মিরাজের নিকট হস্তান্তর করে শোরুম কর্মচারীরা এলাকা থেকে চলে যায়।

কর্মচারীরা স্থান ত্যাগ করার পরপরই একটি খালি পিকআপযোগে ৭/৮ দুষ্কৃতকারী এসে তাদের হাতে থাকা চাপাতির ভয় দেখিয়ে গাড়ির ড্রাইভার হেলপারদের গাড়িতে ওঠায় এবং বিভিন্ন জায়গায় মালামাল নামিয়ে নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হলে উপ-পরিদর্শক এসআই সুমন চন্দ্র শীল তদন্তের দায়িত্ব পান। মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং আলামত উদ্ধারে কাজ শুরু করে শেরেবাংলা নগর থানা টিম।

ডিসি হারুন বলেন, তেমন কোনো ক্লু না থাকায় তদন্ত শুরু করতে হয় বড় পরিসরে। প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরার সহায়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১ জুলাই রবিউল ইসলামকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বসিলা এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্ত টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। বসুন্ধরা রিভারভিউ এলাকা হতে আসামির স্বীকারোক্তি মতে সাতটি ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়।

ডাকাতিতে রবিউলের চার সহযোগীর মধ্যে মেহেদি হাসান মৃধা ওরফে হাসান ও মো. রনি  ময়মনসিংহ জেলা ডিবি পুলিশ কর্তৃক আটক অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে তথ্য যাচাইয়ের পর তদন্ত টিম ময়মনসিংহ পৌঁছায় এবং সেখানে হাসান ও রনির হেফাজতে থাকা দু'টি ফ্রিজ দুটি টেলিভিশন উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে রবিউল ইসলাম ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। রবিউলের দেওয়া তথ্যমতে গত ৪ জুলাই ডাকাতিতে অংশগ্রহণকারী সুমন ও রানা নামে দুজনকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জাউচর আরশিনগর এলাকা হতে গ্রেপ্তার ও একটি টেলিভিশন উদ্ধার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্য মতে মেহেদি হাসান মৃধার দুজন আত্মীয়ের সাভার-আশুলিয়ার বাসা থেকে দুটি ফ্রিজ জব্দ করা হয়। এছাড়া তাদের দেয়া তথ্যে সাথী নামে একজনকে গ্রেপ্তার ও তার দোকান হতে ৬টি ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ডাকাতির ঘটনায় অংশগ্রহণকারীরা আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। জেলহাজতে থাকাকালে একে অপরের সাথে পরিচয় হয়। সেখানেই ডাকাতির পরিকল্পনা করেন তারা।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে আদালত সোপর্দ করা হবে বলেও জানান ডিসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত