যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হয়ে যান দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের মেয়রের পার্ক ওন-সুন। এদিনই পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
বিবিসি জানায়, ঘর থেকে বের হওয়ার আগে মার্ক একটি মেসেজ রেখে গিয়েছিলেন বলে তার মেয়ে পুলিশকে জানান। এরপর মার্কের নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
সিউলের উত্তরাঞ্চলের মাউন্ট বোগাক এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। সেখানেই সবশেষ তার ফোনের সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল। তার মৃত্যুর কোনো কারণ এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি।
জানা যায় যে পার্ক নিখোঁজ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন একজন নারী কর্মকর্তা। কিন্তু এই বিষয়টি তার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা, তা নিশ্চিত নয়।
সিউল মহানগর প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার কাজে যাননি মার্ক। সেদিন সোল সিটি হল অফিসে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে একটি মিটিংও বাতিল করেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা লি বিয়েয়ং-সেওক সাংবাদিকদের জানান, যে এলাকায় স্থানীয় সময় সকাল ১০:৫৩ মিনিটে নিরাপত্তা ক্যামেরায় তাকে শেষবার দেখা যায়, ওই এলাকাতেই সবশেষ তার ফোনের সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার প্রায় ৬০০ পুলিশ ড্রোন এবং কুকুরসহ এলাকাটিতে তল্লাশি চালায়। তার লাশ সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের বাইরে মানুষ জড়ো হয়।
২০১১ সালে প্রথমবার সিউলের মেয়র নির্বাচিত হন পার্ক। আর গত বছরের জুনে তৃতীয় ও শেষ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ায় চলমান সামাজিক বৈষম্য এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন তিনি।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ের স্বপক্ষে আইনজীবী হিসেবেও ভূমিকা রেখেছেন। আইনজীবী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত প্রথম ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেন তিনি।
২০১৭ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট পার্ক জেউন-হাইয়ের বিরোধিতা করেছিলেন। সেসময় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভে তিনি সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছিলেন। পরে ঘুষ নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রেসিডেন্ট পার্ক জেউন-হাইকে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য পার্ককে বিবেচনা করা হচ্ছিল ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য পদপ্রার্থী হিসেবে।
