নমুনা দিতে এসে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ০৭:৪৯ এএম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের দুটি ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য পরীক্ষা চলছে। হাসপাতাল চত্বরে বিশেষ বুথে চলে করোনা পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহের কাজ। পরীক্ষা করে এর মধ্যে প্রতিদিনই অর্ধশতাধিক নমুনায় করোনা ধরা পড়ছে। কোনো কোনো দিন শতাধিক রোগীও শনাক্ত হচ্ছেন। কিন্তু নমুনা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থানে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বালাই নেই। ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে নমুনা জমা দিচ্ছেন তারা। ফলে যারা করোনায় আক্রান্ত নন, তাদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

রাজশাহীতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এরই মধ্যে রাজশাহী নগরীতেই ১১০০ ছাড়িয়েছে করোনা রোগী। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন ১৮৮টি করে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে আরও বেশি। মানুষের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা নমুনা সংগ্রহকারীদের। তবে নমুনা দিতে এসে সামাজিক দূরত্ব না মানায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করতেন। প্রথমদিকে নমুনার সংখ্যাও ছিল কম। তবে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে করানোর নমুনা পরীক্ষা সংখ্যা। এ ছাড়া যারা নিজে গিয়ে নমুনা দিতে চান, তাদের জন্য হাসপাতালের সামনে স্থাপিত বুথে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

প্রথমদিকে রোগীর চাপ কিছুটা কম থাকলেও এখন চাপ বেড়েছে অনেক। জ্বর-সর্দি হলেই চলে আসছেন নমুনা দিতে। আবার অনেকে কোনো উপসর্গ না থাকলেও নিজেকে সন্দেহমুক্ত করতে নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন।

অন্যদিকে, বাড়ি থেকে নমুনা দিলে ৫০০ টাকা এবং হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দিলে ২০০ টাকা ফি নির্ধারিত হওয়ার পর হাসপাতালে চাপ বেড়েছে। হাসপাতালের বুথে বেড়েছে ভিড়। চাপ বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই নমুনা সংগ্রহ বুথের সামনে। অনেকটা জটলা বেঁধেই নমুনা দেওয়ার জন্য বুথের সামনে অবস্থান করেন নমুনা দিতে আসা মানুষ। এর ফলে বুথের সামনে আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসে সুস্থরাও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ নিয়ে অনেক রোগীও ক্ষোভ জানাচ্ছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা রোগীদের প্রতিনিয়ত সচেতন হতে বলছি। নমুনা দিতে এসে রোগীরা যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন। আমরা ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ডাক্তারদের জন্য এবং নার্সিং হোস্টেলের পেছনে নার্সদের নমুনা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’ এতে করে ভিড় কমে আসবে বলে আশা করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত