সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁও রোড আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গত বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে কতিপয় ব্যক্তি। সেই মাঠ পরদিন গতকাল শুক্রবার সকালে দখলমুক্ত করেন বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের মাঠ দখল হওয়ার কথা শুনে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকালে হাজির হয় মাঠে। টিনের বেড়া অপসারণ করে মুক্ত করে তারা।
জানা যায়, স্কুলটি ১৯৮৭ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৩ সালে সরকারি বিদ্যালয় হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। ওই বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ৩৩ শতক। তার মধ্যে ১৫ শতক জমির ওপর গত বৃহস্পতিবার রাতে আজিজার রহমান গামা, মোস্তাফিজুর রহমান লিংকন ও মোস্তাক আহম্মেদ নিশাত নামে তিন ব্যক্তির নামে সাইনবোর্ড ওঠে। তাদের সংঘবদ্ধ লোকজন বৃহস্পতিবার রাতে ওই বিদ্যালয়ের মাঠে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে। সাইনবোর্ড অনুযায়ী তারা পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক।
পরদিন গতকাল শুক্রবার সকালে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন দৃশ্য নজরে এলে তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে খবর দেয়। পরে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির উপস্থিতিতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মাঠে দেওয়া টিনের বেড়া অপসারণ করে।
জমির মালিকানা দাবি করা মোস্তাফিজুর রহমান লিংকন বলেন, আমার জমিতে স্থাপনা করেছি। তারা জোরপূর্বক বেড়া অপসারণ করেছে। এর আগেও আমি সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়েছিলাম এবং গাছ রোপণ করেছিলাম, সেগুলো অপসারণ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই জমির মালিকানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে বলে দাবি করেন মোস্তাফিজুর রহমান লিংকন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, কেউ যদি সত্যিকার অর্থে মালিক হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এর সমাধান করাটা উত্তম হবে।
ঠাকুরগাঁও রোড আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তার বলেন, সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি বিদ্যালয়ের মাঠে টিনের বেড়া দিয়ে দখল করা হয়েছে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহামুদ হাসান রাজু বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদ্যালয় বন্ধ। এর মধ্যে আকস্মিকভাবে রাতের অন্ধকারে আজিজার রহমান গামা নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করার চেষ্টা করা হয়। তার কাছে কাগজ আছে কি না বা কাগজের সত্যতা আছে কি না, তিনি তার প্রমাণ দিতে পারেননি।
স্থানীয় ওই ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর একরামুদ্দৌলা সাহেব বলেন, একটি সরকারি বিদ্যালয়ের মাঠ রাতের অন্ধকারে দখল করাটা অন্যায়।
সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, স্কুলের জমি দখল করার ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
