পৌনে ২ লাখ কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে বিপাকে খামারিরা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ০৬:৫২ এএম

প্রতিবারের মতো কুষ্টিয়ায় এবারাও কোরবানি ঈদ ঘিরে খামারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেশি পদ্ধতিতে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এককালীন লাভের আশায় এনজিও ও ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কোরবানির জন্য প্রায় পৌনে ২ লাখ পশু প্রস্তুত করেছেন চাষিরা। ঈদের সময় এগিয়ে এলেও ক্রেতার দেখা নেই। করোনা পরিস্থিতিতে এসব পশু বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কুষ্টিয়া জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ বছর কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় ১ লাখ ৫ হাজার গরু ও মহিষ এবং ৭০ হাজার ছাগল ও ভেড়া উৎপাদন হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা। ৩০ শতাংশ হলেই জেলার চাহিদা পূরণ হয়। বাকি ৭০ শতাংশ পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় খামারি ও চাষিরা বলছেন, ঈদের ১৫-২০ দিন আগেই জেলায় বাইরের বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অর্ধেকের বেশি পশু তারা কিনে নেন। কিন্তু এবার কারও দেখা নেই। দুই-একজন এলেও দাম করছেন অর্ধেক। এতে পশু মোটাতাজাকরণের খরচও উঠবে না। মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের কৃষক শহিদুলের স্ত্রী হাফিজা খাতুন বলেন, ‘এবার আমরা তিনটি দেশি জাতের ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। অন্যবার ক্রেতার লাইন পড়ে গেলেও এবার এখনো কারও খোঁজ নেই। পশু খাদ্যের দোকানে অনেক টাকা বাকি, গরু বিক্রি করে শোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’ ভেড়ামারা উপজেলার চাষি সলক ম-ল বলেন, ‘এবার বাটিসুদ্ধ গুড় উজাড়ের দশা। গত ঈদের পর সমিতি থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৬টি ষাঁড় কিনিচি। প্রতিটা গরুর জন্য দিনে ৩০০ টাকা হিসাবে ৮০-৯০ হাজার টাকা খাবারেই গেছে। একন গরুর দাম ৯০ হাজার কয়, তালি তো ঘরবাড়ি বেচি দিয়্যা লাগবিনি।’

মিরপুর উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সোহাগ রানা জানান, স্বাভাবিক পদ্ধতিতে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে এবার তারাও সংশয়ে আছেন। অনেক খামারি ঋণ নিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন। নিজে না খেলেও তাদের খাবার জুগিয়েছেন। এখন চাষিরা ন্যায্য দামে পশুগুলো বিক্রি করতে না পারলে চরম সংকটে পড়বেন বলে জানান তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়িতে পশু বিক্রি নিয়ে অনেকে শঙ্কার কথা বলছেন। সরকার অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করলেও প্রযুক্তিগত অদক্ষতায় খুব কমসংখ্যক খামারি ও চাষি তা কাজে লাগাতে পারবেন। ফলে আর্থিক ক্ষতি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

এদিকে খামারি ও চাষিরা গবাদিপশু বিক্রি করতে না পারলে ঋণ দিতে পারবেন না। এ নিয়ে ব্যাংক ও এনজিওগুলো চিন্তিত। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কুষ্টিয়ার মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মুনসুরুর রহমান বলেন, ‘এ অঞ্চলে পশু মোটাতাজাকরণ লাভজনক হওয়ায় খামারিদের প্রায় ৬০ কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিয়েছি আমরা। অনেক খামারি ঋণ পরিশোধে অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। আমরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের ৪ শতাংশ সুদ হারে ঋণ নিতে পরামর্শ দিচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত