(গতকালের বাকি অংশ)
১. ঐতিহাসিক নিদর্শন পরিদর্শনের কারণসমূহ হলো
ক. অতীত সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে পরিচয় পাওয়া যায়।
খ. বিভিন্ন শাসনামলের কৃষ্টি-কালচার জানা যায়।
গ. বিভিন্ন শাসক ও তাদের রীতিনীতি জানা যায়।
ঘ. বিভিন্ন ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
ঙ. বিভিন্ন প্রতœতাত্ত্বিক স্থান থেকে প্রাপ্ত ক্ষুদ্র ও মূল্যবান দ্রব্য থেকে তখনকার মানুষের সভ্যতার ও রুচিবোধের পরিচয় জানা যায়।
চ. প্রাচীন সভ্যতা বিলুপ্তির কারণ জানা যায় এবং গবেষকরা নানা তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
২. যে কারণে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো আমাদের সংরক্ষণ করা উচিত
ক. ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো আমাদের জাতীয় সম্পদ।
খ. এগুলো জাতির অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।
গ. আমাদের অতীত সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।
ঘ. ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের সংস্কৃতির তুলনা করতে পারি।
ঙ. এগুলো সংরক্ষণ করলে পর্যটকরা আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে।
চ. ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
৩. সোমপুর মহাবিহার রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত। এটি আয়তনে অত্যন্তবৃহৎ ছিল (২৪ মিটার উঁচু গড় বিশিষ্ট) এবং বহু সংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে একত্রে পড়াশোনার সুযোগ পেত বলে একে মহাবিহার বলা হয়। সোমপুর মহাবিহার সম্পর্কে চারটি বাক্য
ক. সোমপুর মহাবিহার ৭৮১-৮২১ খ্রিস্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে নির্মিত হয়।
খ. এ বৌদ্ধ বিহারের চারপাশে ১৭৭টি ভিক্ষুকক্ষ আছে।
গ. এখানে মন্দির, রান্নাঘর, খাবার ঘর এবং পাকা নর্দমা আছে।
ঘ. এখানে জীবজন্তুর মূর্তি ও টেরাকোটা পাওয়া গেছে।
৪. মৌর্য আমলে মহাস্থানগড় ‘পু-্রনগর’ নামে পরিচিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে পরবর্তী পনেরো শত বছরের বেশি সময়কালের বাংলার ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করায় মহাস্থানগড় গুরুত্বপূর্ণ। মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত চারটি নিদর্শন
ক. প্রাচীন ব্রাহ্মী শিলালিপি।
খ. পোড়ামাটির ফলক ও ভাস্কর্য।
গ. ধাতব মুদ্রা ও পুঁতি।
ঘ. ৩.৩৫ মিটার লম্বা খোদাই পাথর।
৫. পাহাড়পুর নওগাঁ জেলায় অবস্থিত। এটি বৌদ্ধ ধর্মভিত্তিক জ্ঞানচর্চার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। পাহাড়পুর সম্পর্কে চারটি বাক্য
ক. এটি ‘সোমপুর মহাবিহার’ নামে পরিচিত।
খ. এ নিদর্শনটি ৭৮১-৮২১ খ্রিস্টাব্দে পালরাজা ধর্মপালের শাসনামলে নির্মিত হয়।
গ. এখানে ২৪ মিটার উঁচু গড় রয়েছে।
ঘ. এখানে ১৭৭ টি ভিক্ষুকক্ষ আছে।
৬. ময়নামতি কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত। অষ্টম শতকের রাজা মাণিক চন্দ্রের স্ত্রী ময়নামতির নামানুসারে এই জায়গার নাম ময়নামতি হয়েছে। ময়নামতি সম্পর্কে চারটি বাক্য
ক. ময়নামতি ছিল বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র।
খ. এখানে হিন্দু ও জৈন ধর্মেরও নিদর্শন পাওয়া গেছে।
গ. ময়নামতিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিদর্শন পাওয়া গেছে।
ঘ. এখানকার জাদুঘরে বিভিন্ন মুদ্রা ও পাথরের ফলকের নিদর্শনও আছে।
৭. সোনারগাঁ মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। নদীপথে যাতায়াত সুবিধাজনক হওয়ার জন্য এটি নদীর ধারে গড়ে উঠেছে। সোনারগাঁ সম্পর্কে চারটি বাক্য
ক. সোনারগাঁ সতের শতকের ঐতিহাসিক নিদর্শন।
খ. প্রাচীন বাংলার মুসলমান সুলতানদের রাজধানী ছিল।
গ. শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ১৯৭৫ সালে এখানে একটি লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন।
ঘ. সুতা বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে এখানে পানামনগর গড়ে ওঠে।
৮. উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলায় অবস্থিত। এখানে প্রাপ্ত দুটি নিদর্শন
ক. পাথরের বাটখারা। খ. কাচের পুঁতি।
পরিদর্শন করে যে ধারণা পাওয়া যায়
ক. উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলার দুটি গ্রাম।
খ. এটি মহাস্থানগড়ের মতো বাংলার একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন।
গ. সমুদ্র বাণিজ্যের সঙ্গে এ অঞ্চলটি যুক্ত ছিল।
ঘ. এখানে প্রাচীন রৌপ্যমুদ্রা ও হাতিয়ার পাওয়া গেছে।
৯. আহসান মঞ্জিল ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ফরাসিরা এটি ক্রয় করেছিল। ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে আহসান মঞ্জিলের গুরুত্ব
ক. এটি অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।
খ. এর নির্মাণশৈলী আমাদের অতীত সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।
গ. বিদেশি পর্যটকরা এসব নিদর্শন দেখতে এসে আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে।
ঘ. এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ।
