সিপিবি অফিসে 'স্ত্রীকে নির্যাতন': ব্যাখ্যা দিলেন অভিযুক্ত শুভ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ০২:০৫ এএম

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অফিসে নারী নির্যাতনের অভিযোগকে মিথ্যা-বানোয়াট-ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করেছেন বাদীর স্বামী এস এম শুভ।

শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সিপিবির ডেমরা শাখার সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এস এম শুভ এ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অফিসে স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় গত ১৬ জুলাই কলাবাগান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। আসামিরা হলেন, এ মামলার বাদীর স্বামী এস এম আব্দুস সাত্তার ওরফে শুভ (৩৪) এবং শুভ’র বন্ধু আরিফুল ইসলাম নাদিম (৩৫)। নাদিমও সিপিবির অঙ্গসংগঠন ক্ষেতমজুর সমিতির সদস্য।

বিজ্ঞপ্তিতে শুভ বলেন, কলাবাগান থানায় আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখিত সকল অভিযোগ কল্পিত, মিথ্যা-বানোয়াট। আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং হেনস্তা করার হীন উদ্দেশ্যে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, জীবন যাপনের ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শকেই সবসময় অবলম্বন করেছি। আর সে কারণেই সারা দেশে অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীদের নিকট আমার সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। বাদীর দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শুভানুধ্যায়ী মহল বিভ্রান্তিতে রয়েছেন।

তিনি বলেন, মামলায় উল্লেখিত অভিযোগ আমাকে বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে। ‘ব্যবসা করা’র উদ্দেশ্যে ‘যৌতুকের’ দাবি সংক্রান্ত অভিযোগটি কল্পনাপ্রসূত এবং সম্পূর্ণ অবান্তর। বাদী ইতিপূর্বে গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি বরাবর আরও একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযোগ পত্রের কোথাও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয় নি। পরবর্তীতে ১০ জুলাই অভিযোগকারী সশরীরে হাজির হয়ে ক্ষেতমজুর সমিতির নেতৃবৃন্দের নিকট অভিযোগের বিষয়ে ঘন্টাব্যাপী বিশদ বর্ণনা দেন। কিন্তু কোথাও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের কিংবা অতীতে কোনো নির্যাতনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।

সিপিবি অফিসে বাদীকে ‘নির্যাতনের’ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা-ভিত্তিহীন এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করে শুভ বলেন, বিগত ১ বছর যাবৎ আমি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে বাস করছি। বাদী ইতিপূর্বেও অসংখ্যবার সিপিবি অফিসে এসে আমাকে ব্ল্যাকমেল ও বিভিন্ন সিন ক্রিয়েট করার চেষ্টা করলেও সর্বদাই তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। ইতিপূর্বে তিনি পার্টি অফিসের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার হুমকিও প্রদান করেন। গত ২১ জুন রাতে আমার রুমের সামনে প্যারাডাইস ক্যাবলসের শতাধিক আন্দোলনরত শ্রমিক অবস্থান করছিলেন। আমার রুম বরাবর এবং নিচতলা পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা রয়েছে, যা পর্যবেক্ষণ করলেই ‘নির্যাতনের’ ভিত্তিহীন অভিযোগটি সহজেই মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হবে। তিনি যদি ২১ জুন উল্লেখিত নির্যাতনে আহত হয়ে থাকেন তাহলে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় গেলেন কেনো? পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যান ঘটনার চার দিন পর- ২৫ জুন। ইতিপূর্বে অসংখ্যবার ঘুমের ঔষধ খাওয়া, সেভলন পান, অ্যান্টিকাটার দিয়ে হাত কাটা, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করার মতো প্রভৃতি ঘটনাকে ব্যবহার করেছেন নিজের উদ্দেশ্য চরিতার্থে।

মামলার বাদীর সাথে আমার বিয়ের ঘটনাটিও অস্বাভাবিক এবং জবরদস্তিমূলক যা ফৌজদারি অপরাধও বটে। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে বাদী গত বছর ১৩ জুন আমাকে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মগবাজারে নিয়ে যান। নিজের ব্যাগ থেকে কেরোসিনের বোতল বের করে গায়ে ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার হুমকি এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সেখানে উপস্থিত বাদীর  দু’জন সাবেক সহকর্মীর সহযোগিতায় আমাকে বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিয়ের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বাধ্য করেন। বিয়েতে আমার পরিবারের এমনকি আমার পরিচিত কোনো ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না। দু’জনের সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে আমি কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করি নি। কিন্তু আমি কোনোভাবেই বিয়ের বিষয়টি মেনে নিতে পারিনি। সে কারণেই তিনি আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়মিতভাবে হয়রানি করে আসছেন।

শুভ জানান, ৬ মাস পূর্বে বাদীকে আমি সমঝোতার ভিত্তিতে ডিভোর্স প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তাব দিলে তিনি ভয়াবহ মানসিক নির্যাতন শুরু করেন এবং যত্র-তত্র হেনস্তা করতে থাকেন ও মামলার হুমকি প্রদান করেন। গত ১৯ জুলাই আমি বাদীকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়েছি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তাই আমি মনে করি ডিভোর্স প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে এবং আমার রাজনৈতিক অবস্থান ও সুনাম নষ্ট করতেই বাদী প্রতিহিংসাবশত আমার বিরুদ্ধে ‘যৌতুক’ ও ‘নির্যাতন’ এর মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি বলেন, ‘নির্যাতন’ প্রসঙ্গে বাদীর অভিযোগকে সুকৌশলে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রকারীরা নিজদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিপিবি'র অফিসকে টার্গেট করেছে। সিপিবি'র আদর্শিক রাজনৈতিক অবস্থানকে বিতর্কিত করতেই সুযোগসন্ধানীরা নোংরা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত