রামগড় স্থলবন্দর সংযোগ সড়কের ডিপিপি চূড়ান্ত

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২০, ০৬:৫৯ এএম

চট্টগ্রামে দেশের ২৩তম রামগড় স্থলবন্দরের কাজ এগিয়ে চলেছে। জেলার বারৈয়ারহাট থেকে হেঁয়াকো হয়ে রামগড় পর্যন্ত বন্দরের ৩৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ অর্থায়নে সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে প্রায় ২২ কোটি টাকা। পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন সওজের কর্মকর্তারা। তারা আরও জানান, প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। এটি বাস্তবায়ন হলে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বেগবান হবে।

এ বিষয়ে সওজের চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রামগড় স্থলবন্দরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এটি চালু হলে ভারতের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এজন্য সরকার দেশটির সঙ্গে যৌথভাবে রামগড় সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে ডিপিপি চূড়ান্ত হয়েছে। আশা করছি, পরবর্তী একনেক সভায় প্রকল্পটি উঠবে এবং অনুমোদন পেলে দুটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রামগড় স্থলবন্দর দুদেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কেন না উত্তর-পূর্ব ভারতের পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য কলকাতা বন্দরে যেতে কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ইতিমধ্যে ভারত আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে অন্যান্য অঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল রাজ্যে পণ্য সরবরাহ করছে। নতুন এই সড়ক ভারত ছাড়াও নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে স্থলপথে যোগসূত্র স্থাপন করবে।’

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালে জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চাইছে সওজ। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪৮ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ২৬৭ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা (৩১ দশমিক ৪৯ শতাংশ) দেবে। আর ভারত সরকার (এলওসি) ব্যয় করবে ৫৮১ কোটি ১৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা (৬৮ দশমিক ৫১ শতাংশ)। প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে ৬৮ দশমিক ৬১ হেক্টর। এজন্য জিওবি ফান্ড থেকে ব্যয় হবে ২৩ কোটি ৮৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। যদিও সরকারের ৫৪ দশমিক ৬৪৭৫ হেক্টর নিজস্ব জমি প্রকল্প এলাকায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত