সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা ও সলঙ্গা থানার সলঙ্গা ইউনিয়নের শাহরিয়ারপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী শাপলা খাতুনকে (১৪) মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তার চাচাতো ভাই আশিক আহমেদ( ২২) নিজ বাড়িতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এ সময় শাপলাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে ঘাতক আশিক শাপলার মা আমিনা খাতুন ও ঘাতক আশিকের মা কল্পনা খাতুনকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে।
তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘাতক আশিককে গ্রেপ্তার করেছে। সে ওই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। অপরদিকে নিহত শাপলা খাতুন ধামাইলকান্দি কেফায়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
এ বিষয়ে ঘাতক আশিকের মা কল্পনা খাতুন জানান, শাপলাসহ আমরা ক'জন বাড়িতে বসে ছিলাম। হঠাৎ আশিক ছুটে এসে দা দিয়ে পিছন থেকে শাপলাকে এলোপাথারি কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই শাপলা মারা যায়। আমরা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে আশিক আমাদেরকেও কুপিয়ে আহত করে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আশিককে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ওসি জেড জেড মো. তাজুল হুদা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় নিহতর বাবা আব্দুল কদ্দিুস বাদী হয়ে ঘাতক আশিককে একমাত্র আসামী করে সলঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েক করেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে হত্যার মূল কারণ জানা যাবে।
পুলিশ আরো জানায়, ঘাতক আশিক গত এক মাস আগেও একই গ্রামের হাফিজুর রহমান নামে এক যুবককে কুপিয়ে আহত করেছিল। গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে বিষয়টি ধাপাচাপা দেওয়া হয়। ফলে সে আবারও এ ধরণের অপরাধের সাথে জড়িয়েছে।
এদিকে স্কুলছাত্রী শাপলা হত্যার ঘটনায় তার সহপাঠিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে ঘাতক আশিকের ফাঁসি দাবী করেছে।
