স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিকেল ৪টা নাগাদ জলোচ্ছ্বাসের মতো হু হু করে পানি ঢুকে তলিয়ে যায় নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় লোকজন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় ৪টি ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানি আটকে থাকার কারণে বেড়িবাঁধের বাইরের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। গত ৩ দিনের মেঘনা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে মৌসুমি ফসলের। এ ছাড়া গত তিন দিন যাবৎ লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মতিরহাঁট এলাকার ৫০টির অধিক গ্রাম এখনো রয়েছে পানির নিচে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার রায়পুর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার আলতাফ মাস্টার ঘাঁট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে চর আবাবিল, চরভৈরবী, হাজিমারা, চর কাচিয়া, জালিয়ার চর, কুচিয়ামোড়া, চরলক্ষ্মী, চরবংশী, চর ঘাশিয়া, টুনুর চরসহ ১২টি গ্রাম। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গৃহপালিত পশু ও বৃদ্ধ এবং শিশুরা।
রায়পুর উপজেলার আলতাফ মাস্টার মাছ ঘাঁট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী আবদুস সালাম জানান, গত ২০ বছরেও নদীর এমন ভয়ংকর রূপ আমরা দেখিনি। হঠাৎ করে প্রায় ৮/১০ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। চারদিকে কান্নাকাটি। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বুঝতে পারছি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনো পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকাগুলো থেকে পানি নামেনি। নতুন করে আবারও জলোচ্ছ্বাস হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জোয়ারে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পী। এ সময় তিনি ইউপি সদস্যদের জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছায়েফ উল্লাহ জানান, কয়েক বছরের মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বেড়িবাঁধ মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই জোয়ারে ওই সব গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। এ সময় এলাকায় চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। ফসলের মাঠ তলিয়ে যায়, মাছের ঘের ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তবে জোয়ারের পানিতে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানাতে পারেননি জেলা ও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী জানান, জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারণে বেশ কিছু কাঁচা ও আধা পাকা ঘরবাড়ি ও সড়কের গাছসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
