ভাইয়ের সঙ্গে কয়েন নিয়ে খেলছিল ১৩ বছরের ফাতেমা খাতুন। খেলার ছলেই সে কয়েন লুকাতে তা মুখে পুরে নেয়। কিন্তু অসাবধানতাবশত তা চলে যায় খাদ্যনালিতে। আটকে যায় শ্বাসনালির পাশে থাকা খাদ্যনালির মুখে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহের কালিয়াচকের আলিনগর গ্রামে। দিনটি ছিল ঈদের দিন। ফাতেমা সেদিন পরিবারের সঙ্গে মামার বাড়িতে গিয়েছিল। মামাতো ভাইকে নিয়ে মেলা দেখতে যাওয়ার কথা ছিল তার। মেলায় যাওয়ার জন্যই দুই ভাই-বোনকে টাকাটা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই টাকা নিয়ে দুই ভাই-বোন খুনসুটি করতে গিয়েই বিপত্তি।
ফাতেমার খাদ্যনালির মুখে কয়েন আটকে যাওয়ার পর পরিবারের লোকেরা তাকে প্রথমে কালিয়াচকের সিলামপুর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, সেখানে কিছু করা সম্ভব নয়। তাকে রেফার করা হয় মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। এর পর শনিবার রাতেই অস্ত্রোপচার করে একটি ১০ টাকা ও দু’টি ৫ টাকার কয়েন বার করেন হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের সার্জন খুরশিদ পারভেজ ও তার দল। হাসপাতাল জানিয়েছ, ফাতেমা বিপদমুক্ত। তবে আরও দু’দিন তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে।
খুরশিদ পারভেজ বলেন, এক্স-রে করে দেখা যায় খাদ্যনালীর মুখে গোল একটি ধাতব পদার্থ রয়েছে। যদিও ফাতেমার দাবি ছিল, সে তিনটি কয়েন খেয়ে ফেলেছে। তখনই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই। রাতে দেখতে পাই মাঝে দশ টাকার একটি কয়েন ও দুই পাশে দুটো পাঁচ টাকার কয়েন ফাতেমার খাদ্যনালির মুখে আটকে রয়েছে। এর আগে আমরা অনেক শিশুর খাদ্যনালি থেকে কয়েন বার করেছি। কিন্তু তিনটি কয়েন এবং একেবারে খাদ্যনালীর মুখে পাশাপাশি সাজানো এই প্রথম পেলাম।
তিনি জানান, প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ওই কয়েনগুলি বার করা হয়। ফতেমা এখন বিপদমুক্ত।
সূত্র: আনন্দবাজার।
