বন্যায় ফরিদপুরের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ০৭:২৯ এএম

বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে ফরিদপুরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। পানিতে তলিয়ে রয়েছে জেলার সাত উপজেলার ১৫০ কিলোমিটার পাকা সড়ক। এ ছাড়া অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে আছে।

ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম নকিবুর বারী জানান, এবারের বন্যায় সড়ক বিভাগে দুই সড়কের (গোয়ালন্দ-ফরিদপুর-তাড়াইল এবং হাটগজারিয়া চরভদ্রাসন-সদরপুর) চার কিলোমিটারের বেশি অংশ নষ্ট হয়ে গেছে।

সড়ক বিভাগের এই প্রকৌশলী আরও বলেন, সড়ক দুটিতে রেইন কাট, সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস, অনেক জায়গা দেবে গেছে, সড়কের মাটির শোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা জানান, উপজেলার ৭০ শতাংশই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এক মাসের মতো দীর্ঘ সময় পানি থাকায় উপজেলার এমপি ডাঙ্গী-জাকেরের সরু, খালাসি ডাঙ্গী, বিএসডাঙ্গী সড়কসহ আরও বেশ কিছু সড়কের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যার পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলে উপজেলার সড়কগুলোর ক্ষতি নিরূপণ করতে পারব। তবে যে সড়কগুলো নিমজ্জিত ছিল তার অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে।

দুই দফা বন্যায় জেলার সাত উপজেলার ৫৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ কারণে প্লাবিত গ্রামগুলোর সড়ক যোগযোগব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

ফরিদপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় দেড় শ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফরিদপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী পিন্টু সাহা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলায় দেড় শ কিলোমিটার সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এ ছাড়া অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের পানি এখনো না নামায় ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে পারিনি। তবে পানিতে নিমজ্জিত সড়কের ৮০ শতাংশই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রকৌশলী আরও জানান, আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মধুমতী নদীর ভাঙনে দুটি সড়কের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত